বেকারদের ‘আরশোলা’ তকমা দেওয়ার প্রতিবাদে সাড়া ফেলে আত্মপ্রকাশ করেছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। এ বার শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির একটি পর্যবেক্ষণকে হাতিয়ার করে সমাজমাধ্যমে গজিয়ে উঠল আরও একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন— ‘মাছি জনতা পার্টি’ (এমজেপি)। আর আত্মপ্রকাশের মাত্র বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে তিন লক্ষ চল্লিশ হাজারেরও বেশি অনুগামী টেনে জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে এই ছাত্র-যুব সংগঠনটি। স্পষ্ট জানিয়েছে, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে আরশোলার পাশে দাঁড়িয়ে এ বার ময়দানে নামছে মাছিরাও।
দিল্লির মসনদকে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদের মাধ্যমে বিঁধতে যে অভিনব রাস্তার সূচনা করেছিলেন অভিজিৎ দীপকেরা, সেই পথ ধরেই সোশ্যাল মিডিয়া স্পেসে প্রবেশ এমজেপি-র। দলের নেপথ্যে রয়েছেন আরিয়ান নামে এক ছাত্র। কিন্তু কোথা থেকে এল এই মাছির প্রসঙ্গ? সূত্রের খবর, গত ১০ অক্টোবর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর-মন্তরে সিজেপির অভিযান আটকাতে রাজধানীতে ব্যাপক কড়াকড়ি করেছিল প্রশাসন। বন্ধ রাখা হয় মেট্রো স্টেশন, ব্যাহত হয় ইন্টারনেট পরিষেবা ও ট্রেন চলাচল। গোটা রাজধানীর অচলাবস্থা সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে উঠলে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যায় না।
আদালতের সেই ‘মাছি’ শব্দবন্ধটিকেই লুফে নেয় ক্ষুব্ধ যুবসমাজ। নিজেদের ইনস্টাগ্রাম পেজে বিবৃতি দিয়ে এমজেপি জানায়, প্রধান বিচারপতি যখন মাছি মারতে হাতুড়ি তোলার বিরোধিতা করেছেন, তখন সাধারণ যুবদের বুঝিয়ে দিতে হবে যে মাছিও কারও চেয়ে কম নয়। মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় সেই প্রচার। সিজেপির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মাছি জনতা পার্টি সরকারি মুখপাত্র নিয়োগের দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে সমর্থন জানানো হয়েছে আন্দোলনের নেত্রী নেহা বোরাকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রশাসনের দমননীতির বিরুদ্ধে ব্যঙ্গ আর রূপকের আশ্রয়ে যুবসমাজের এই জোটবদ্ধ লড়াই সমাজমাধ্যমের সীমানা ছাড়িয়ে শাসক শিবিরের কপালে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে শুরু করেছে।















