বিমানবন্দরে প্রকাশ্যে বিরোধিতার মুখে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke)। বুধবার দিল্লি বিমানবন্দরে (Delhi Airport) নামার পর তাঁকে লক্ষ্য করে চিৎকার করেন এক ব্যক্তি। দেশের পরিস্থিতি খারাপ করার অভিযোগ তুলে তাঁকে কটাক্ষও করা হয়। তবে পাল্টা কোনও কথা না বলে হাসিমুখে থাম্বস-আপ (Thums Up) দেখিয়েই সেখান থেকে বেরিয়ে যান সিজেপি প্রধান। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিমানবন্দরের বাইরে বেরিয়ে আসছেন অভিজিৎ। সেই সময় এক ব্যক্তি চিৎকার করে তাঁকে প্রশ্ন করেন, “কেন আপনি দেশটাকে বরবাদ করছেন?” তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেও মেজাজ হারাতে দেখা যায়নি অভিজিৎকে। কোনও বিতর্কে না জড়িয়ে নিজের পথে এগিয়ে যান তিনি।

আরও পড়ুন: স্টালিনের হাতের ইশারা নকল করে বিতর্কে বিজয়! RSS-র সঙ্গে তুলনা থালাপতির দলের

বিমানবন্দরে এই বিক্ষোভের পিছনে রয়েছে আরও বড় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। গত ১০ অক্টোবর ঠাকুমার মৃত্যুর খবর পেয়ে মহারাষ্ট্রে নিজের শহরে ফিরে গিয়েছিলেন অভিজিৎ। তার আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দিল্লিতে পৌঁছতেই তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। এবার পরিবারের শোক সামলে রাজধানীতে ফিরেই ফের রাজনৈতিক সংঘাতের মুখে পড়লেন তিনি।

আরও পড়ুন: তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে গিয়ে জ্ঞানেশই ফ্রিজ হয়ে যাবেন: “বিজেপি সরকারের প্রাণ ভোমরাকে” নিশানা অভিষেকের

দিল্লিতে ফিরে সিজেপির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজত নিয়েও সরব হয়েছেন অভিজিৎ। তাঁর প্রশ্ন, নিজের দেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানো যদি অপরাধ না হয়, তা হলে সেই কাজের জন্য দুই নেতাকে জেল হেফাজতে থাকতে হচ্ছে কেন? এই ঘটনাকে স্বাধীন ভারতে নাগরিকের অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন বলেই তুলে ধরেছেন তিনি। 

প্রসঙ্গত, সিজেপির দুই নেতার গ্রেফতারির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা। অন্যদিকে, ভোট চুরির অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে স্বাধীন তদন্তের দাবিতে বিরোধীদের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে জাতীয় পতাকা, প্রতিবাদের অধিকার এবং পুলিশের পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।