রাজনীতিতে কখনও কখনও একটা ছোট্ট অঙ্গভঙ্গিই হয়ে ওঠে বড়সড় অস্ত্র। তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) রাজনীতিতে এখন তেমন একটি ইশারাকে ঘিরেই তুঙ্গে তরজা। আসন সমঝোতার বার্তা দিতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন (M K Stalin) যে হাতের ভঙ্গি করেছিলেন, তা নকল করে আগেই শোরগোল ফেলেছিলেন থালাপতি বিজয় (Thalapathy Vijay)। এ বার সেই একই ইশারাকে আরএসএসের (RSS) সঙ্গে জুড়ে দিয়ে বিজয়কে নিশানা করল ডিএমকে (DMK)। সমাজমাধ্যমে দলের এই আক্রমণ ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে দক্ষিণের রাজনীতিতে।
ঘটনার সূত্রপাত গত মার্চ মাসে। চেন্নাইয়ে ডিএমকের সদর দফতর থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় স্টালিনকে আসন সমঝোতা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিকরা। জবাবে মুখে কিছু না বলে হাত দিয়ে কাটার মতো একটি ইশারা করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা ছিল, আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত, আর নতুন করে বলার কিছু নেই। সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। কিন্তু স্টালিনের সেই ভঙ্গি যে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সংঘাতের কারণ হয়ে উঠবে, তা তখন বোঝা যায়নি।
আরও পড়ুন: পুজোর আগে রেলকর্মীদের বড় উপহার, ৭৮ দিনের বোনাস ঘোষণা কেন্দ্রের
পরবর্তী সময়ে বিধানসভায় সেই ইশারাই নতুন করে আলোচনায় আসে। ডিএমকে বিধায়কদের ওয়াকআউটের পর তাঁদের অনুপস্থিতিতে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে স্টালিনের সেই ভঙ্গি নকল করেন বিজয়। তাঁর এই কাণ্ডে শাসকদলের আসনে হাসি ও করতালি শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। বিজয়ের দল টিভিকে বিষয়টিকে নিছক মজার ঘটনা হিসেবে দেখাতে চাইলেও ডিএমকে বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি।
এর আগে স্টালিনের ওই ইশারাকে অহংকারের প্রকাশ বলে আক্রমণ করেছিল এআইএডিএমকে। আর এ বার একই ভঙ্গি বিজয়ের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে। বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ডিএমকের আইটি শাখার সাম্প্রতিক একটি পোস্ট। বুধবার প্রকাশিত ওই পোস্টে পাশাপাশি রাখা হয়েছে দুটি ছবি। একদিকে আরএসএসের পতাকাকে অভিবাদন জানানোর ভঙ্গি, অন্যদিকে বিজয়ের সেই বহুচর্চিত হাতের ইশারা। ছবির এই তুলনার মাধ্যমে বিজয়কে সরাসরি আরএসএসের ঘনিষ্ঠ বলে কটাক্ষ করেছে ডিএমকে। এমনকী, তাঁকে আরএসএসের ‘মানসপুত্র’ বলেও বিদ্রুপ করা হয়েছে।
বিজয়ের দলকে বিজেপির ‘বি-টিম’ বলে আক্রমণ করার অভিযোগও নতুন নয়। তবে একটি হাতের ভঙ্গিকে এ ভাবে আরএসএসের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র হয়েছে, তা স্পষ্ট। অবশ্য এই বিতর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ টিভিকে শিবির। উল্টে বিজয়ের ওই ইশারা এখন দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক সভা থেকে শুরু করে নানা কর্মসূচিতেও দেখা যাচ্ছে সেই ভঙ্গির অনুকরণ। এমনকী, সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়েছে এর প্রভাব। সম্প্রতি তামিলনাড়ুর মন্ত্রী অরুণ রাজ একটি সরকারি মেডিকেল কলেজের পড়ুয়াদের ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানেও পড়ুয়াদের বিজয়ের ওই ভঙ্গি নকল করতে দেখা গিয়েছে।















