ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানে মাঝ আকাশে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ ইজরায়েলের (Isreal)। পাকিস্তান (Pakistan)-সহ ৩১টি দেশের নাগরিক পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ইজরায়েলের আকাশসীমায় বিমান পরিচালনার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে খবর। এই তালিকায় রয়েছে ইরান, মালয়েশিয়া, আফগানিস্তান, লেবানন, ইরাক, সিরিয়া, কাতার, বাংলাদেশ, সৌদি আরব, আলজেরিয়া ও টিউনিসিয়ার মতো দেশও। তবে এই নিষেধাজ্ঞার পরিধি এবং বাস্তবায়ন নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: প্রশাসনে ২৫ বছর মোদির, স্বীকৃতি জানিয়ে বিশেষ প্রস্তাব রাজ্য মন্ত্রিসভার

সম্প্রতি ইজরায়েলের পরিবহণ মন্ত্রকের তরফে জারি করা নির্দেশে বলা হয়েছে, যে দেশগুলির সঙ্গে ইজরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেই দেশগুলির নাগরিকরা বিদেশি বিমান সংস্থার পাইলট বা কেবিন ক্রু হিসেবে ইজরায়েলের আকাশসীমায় বিমান পরিচালনা করতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য বলে জানানো হয়েছে।

ইজরায়েলের এই নির্দেশ মেনে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফরাসি বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স। মার্কিন বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সও একই পথে হাঁটছে বলে খবর। তবে অন্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলি কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই বিধিনিষেধের ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানে ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটনা। বিমানটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। মাঝ আকাশে বিমানের ওমানি সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামির বিরুদ্ধে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রধান পাইলট স্মিত মচ্ছরকে আক্রমণ করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তদন্তকারীরা পরে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী হামলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। 

অভিযোগ, ওই ঘটনার জেরে বিমানটি আচমকাই উচ্চতা হারাতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন প্রধান পাইলট স্মিত মচ্ছর এবং বিমানের অন্য কর্মীরা। যাত্রীদের কয়েক জনও ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে আটকাতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানে থাকা অন্য পাইলটদের সহায়তায় বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। 


এই ঘটনার পর বিমানকর্মীদের নিয়োগ, তাঁদের অতীত যাচাই এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, ইজরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এমন দেশের নাগরিক কীভাবে ইজরায়েলগামী বিমানে কর্মরত ছিলেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।