আইডিবিআই ব্যাঙ্কের মালিকানা বদলের জল্পনা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। অবশেষে সেই প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিলমোহর দিল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, কানাডার আর্থিক লগ্নি সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্স ফিনান্সিয়াল হোল্ডিংসের হাতে যেতে চলেছে এই ব্যাঙ্কের মূল নিয়ন্ত্রণ। আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই যাবতীয় শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এক সময় দেশের অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ছিল আইডিবিআই। কিন্তু ক্রমাগত আর্থিক সঙ্কটের জেরে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে সরকার তার নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয় জীবন বিমা নিগমের (এলআইসি) হাতে। তখন থেকেই কার্যত রাষ্ট্রায়ত্ত তকমা হারিয়ে বেসরকারি ব্যাঙ্কে পরিণত হয় এই প্রতিষ্ঠান। এতদিন পর্যন্ত ব্যাঙ্কের মোট শেয়ারের ৪৯.২৪ শতাংশ ছিল এলআইসি-র হাতে এবং কেন্দ্রের হাতে ছিল ৪৫.৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ দু’পক্ষ মিলিয়ে মোট অংশীদারি ছিল ৯৪.৭২ শতাংশ।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ মালিকানা তুলে দেওয়া হচ্ছে কানাডার ওই লগ্নিকারী সংস্থার হাতে। এর ফলে ব্যাঙ্কে এলআইসি-র অংশীদারি কমে দাঁড়াবে প্রায় ১৯ শতাংশে এবং কেন্দ্রের অংশীদারি নেমে আসবে প্রায় ১৫ শতাংশে। টরন্টো ভিত্তিক বহুজাতিক লগ্নিকারী সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্স ফিনান্সিয়াল হোল্ডিংসের প্রতিষ্ঠাতা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবের প্রেম ওয়াতসা। ১৯৮৫ সালে এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে প্রেম ওয়াতসাকে ‘কানাডার ওয়ারেন বাফেট’ বলেও অভিহিত করা হয়। ভারতে ইতিপূর্বেও বেশ কিছু বড় সংস্থায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের লগ্নি রয়েছে, যার মধ্যে টমাস কুক ইন্ডিয়া, ডিজিট ইনশিওরেন্স এবং আইআইএফএল ফিনান্স অন্যতম। তবে এই পদক্ষেপকে পূর্ণাঙ্গ বেসরকারিকরণ বা নিছক বিলগ্নীকরণ বলতে নারাজ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তাঁর দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া, কারণ সরকার আইডিবিআই ব্যাঙ্ক থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ পুঁজি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে না। পাশাপাশি শর্ত অনুযায়ী, চুক্তির প্রাথমিক তিন বছর ব্যাঙ্কের নাম পরিবর্তন করতে পারবে না নতুন এই বিদেশি অংশীদার।