তিনি বিধায়ক। তিনি প্রাক্তন শাসকদল তথা বর্তমান বিরোধীদলের মুখপাত্র। সঙ্গে সিনেমায় অভিনয়, রাজ্যসভার প্রাক্তন সংসদ। তবে এসবের মধ্যেও হারিয়ে যায়নি সাংবাদিক সত্ত্বা। নিজেও বারবার সাংবাদিক কুণাল ঘোষকে (Kunal Ghosh) এগিয়ে রাখেন তিনি। 'দাদাগিরি'র মঞ্চেও তার ঝলক মিলল। শাসকদল বিজেপির বিধায়ক সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) থেকে শুরু করে সিপিএমের (CPIM) বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানাকে প্রশ্নের গুগলি দিলেন কুণাল। উত্তর এলো বেশ মজাদার। আর কুনালকে প্রশ্ন করলেন স্বয়ং সঞ্চালক দেব। সবমিলিয়ে জমজমাট দাদাগিরি।

সজলকে কুণালের প্রশ্ন- বউবাজারে সোনাপাড়ায় সজলের পারিবারিক গয়নার দোকান 'বেঙ্গল জুয়েলার্সে'র বিজ্ঞাপনের হোডিং-এ কোনও নায়িকার মুখ দেবেন? সজল উত্তর দেওয়ার আগেই পাশ থেকে আইএসএফের (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী টিপ্পনি কাটেন, "সায়ন্তিকা"। স্বাভাবিকভাবেই হাসির রোল ওঠে। তবে সজল বলেন, তিনি তাঁর স্ত্রীকেই হোডিং-এর মুখ করবেন। কারণ তাঁকে বাড়ি ফিরতে হবে। পাল্টা কুণাল বলেন, সজলের স্ত্রী মুনমুন হোডিংয়ের মুখ হওয়ার যোগ্য।

এর পরে বিধানসভায় একমাত্র সিপিআইএম বিধায়ক মুস্তাফিজুরকে কুণালের প্রশ্ন- "রানাদা, ১৯৯৬ সালে জ্যোতি বসু (Jyoti Basu) যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হতেন তাহলে বাংলার সিপিএমকে কি কখনও শূন্য সংখ্যা দেখতে হত"। উত্তরে একেবারে পার্টি লাইনে থেকে রানা উত্তর দেন, সেই সময় দল তার নীতি অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জ্যোতি বসু সেটাই মেনে নিয়েছিলেন।

এইভাবে একেক জন অংশগ্রহণকারীকে এক একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেন সাংবাদিক কুণাল। নওশাদ সিদ্দিকীকে প্রশ্ন করেন, "কী করে তুমি শাসকবিরোধী দুই দলকেই পকেটে পুরে রেখেছো?" তিনি বলেন, "আমার মুখ আর মুখোশ আলাদা নয়"। আইনজীবী তথা বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর কাছে কুণালের প্রশ্ন ছিল, কাল্পনিক কোটরুম ড্রামায় তিনি কাকে কোন ভূমিকায় দেখতে চান? উল্লেখযোগ্য ভাবে, বিজেপি বিধায়ক অতীতের কংগ্রেসের (যে দলে কৌস্তভ আগে ছিলেন) দিকপাল আইনজীবীদেরই নাম করেন। কাঠগড়ায় রাখেন নিজেকেই।

'কালারফুল' মদন মিত্র (Madan Mitra) জন্য কুণালের প্রশ্ন ছিল, নিজের রাজনৈতিক দল করলে মহিলাদের জন্য কী প্যাকেজ দেবেন? উত্তরে মদন বলেন, আর যাইহোক শাসনভার মহিলাদের দেবেন না।

দেব বেলেঘাটার বিধায়ককে প্রশ্ন করেন, কুণাল ঘোষ কাকে পছন্দ করে রাজনীতিবিদ না সাংবাদিক? উত্তরে তৃণমূল বিধায়ক জানান, আমি সবচেয়ে আগে রাখি সাংবাদিক কুণাল ঘোষকে। বাংলায় প্রথম সংবাদ টিভি শো থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেলের দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে পালন করেছেন কুণাল। তাঁর কথায়, সেই সাংবাদিক কুণাল ঘোষকে আর কোনদিনই ফেরত পাবেন না তিনি।