অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়কের বিরুদ্ধে সহকর্মী এক তরুণীকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকায়। রবিবার রাতে অভিযুক্ত যুবক অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়কে তার চ্যাটার্জিহাটের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার ধৃতকে হাওড়া জেলা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তার জামিনের আবেদন নাকচ করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অর্ঘ্য এবং নির্যাতিতা তরুণী একই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থায় কাজ করতেন। সেই সূত্রেই তাঁদের আলাপ। তরুণীর অভিযোগ, গত ১২ এপ্রিল কাজের কথা বলে চ্যাটার্জিহাট এলাকায় নিজের বাড়িতে তাঁকে ডেকে পাঠায় অর্ঘ্য। সেই সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। ফাঁকা বাড়িতে পেয়ে অর্ঘ্য তাঁর উপর চড়াও হয় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। 

ঘটনার বেশ কিছুদিন পর, গত ২৭ এপ্রিল নির্যাতিতা তরুণী চ্যাটার্জিহাট থানায় অর্ঘ্যর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে ঘটনার দিন থেকে এফআইআর দায়ের করার মাঝের এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান নিয়ে আদালতে সওয়াল করেন অভিযুক্তের আইনজীবী শঙ্খজিৎ লাল মিত্র। তিনি জানান, ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বেশ কয়েকটি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে ঘটনার দিন এবং অভিযোগ জানানোর দিনের মধ্যে যে সময়ের ফারাক রয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং খতিয়ে দেখার মতো বিষয়। পুরো বিষয়টি এখন তদন্তসাপেক্ষ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সঠিক পুলিশি অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন। 

এক জনপ্রিয় অভিনেত্রীর আপ্ত সহায়কের নাম এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনার পুনর্গঠন ও ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল, তা বিস্তারিত জানতে চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আইনের মাধ্যমে দ্রুত সত্য সামনে আসুক, এটাই দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।