গঙ্গার বুকে ভাসমান তরণীতে বসল ছাদনাতলা। রাজনীতির চেনা ময়দান কিংবা সিনেমার চেনা ফ্লোর থেকে অনেকটাই দূরে, একেবারে অন্য মেজাজে ধরা দিলেন বিজেপি নেতা তথা চিত্রপরিচালক শঙ্কুদেব পণ্ডা। সমস্ত রীতিনীতি মেনে রবিবার চার হাত এক হলো তাঁদের। পাত্রী সংবাদমাধ্যমের চেনা মুখ, শহরেরই এক সাংবাদিক স্বর্ণালী। বেশ কয়েক বছর ধরেই তাঁদের সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল রাজনৈতিক ও সংবাদমাধ্যমের অলিন্দে। রবিবারের জাঁকজমকপূর্ণ আলোয় অবশেষে সেই দীর্ঘদিনের জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ল।

বিয়েতে ছিল ষোলোআনা বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। কনের সাজে নজর কেড়েছেন সাংবাদিক স্বর্ণালী। তাঁর পরনে ছিল লাল বেনারসি, সঙ্গে ভারী সোনার গয়না এবং গলায় গোলাপের মালা। কনের বেনারসির সঙ্গে ম্যাচিং করে শঙ্কুর পরনেও ছিল লাল পাঞ্জাবি। বিয়ের মূল অনুষ্ঠানের আগে নবদম্পতি মেতেছিলেন গায়েহলুদের পর্বেও। সেখানেও ছিল রঙের চমৎকার মিল। শঙ্কুদেব পরেছিলেন কাঁচা হলুদ রঙের পাঞ্জাবি আর কনের পরনে ছিল একই রঙের শাড়ি ও ফুলের গয়না।

গঙ্গার বুকে আয়োজিত এই ভিন্নধর্মী বিয়ের আসরে এদিন চাঁদের হাট বসেছিল। রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকের জীবনের এই বিশেষ দিনে স্বাভাবিকভাবেই উপস্থিত হয়েছিলেন রাজনীতি, বিনোদন এবং সংবাদজগতের একঝাঁক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়-সহ অন্যান্য প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রীরা। শঙ্কুদেব ও স্বর্ণালী দীর্ঘদিনের সম্পর্কে থাকলেও, এ নিয়ে আগে কখনও দু’জনের কেউই মুখ খোলেননি। দুজনেই বরাবর নিজেদের জগৎ নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন।
ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা শঙ্কুদেব এখন গেরুয়া শিবিরের পরিচিত মুখ হলেও রাজনীতির পাশাপাশি বিনোদন জগতেও তাঁর অবাধ যাতায়াত। সম্প্রতি তিনি তাঁর নতুন একটি ছবি তৈরির কথা ঘোষণা করে চর্চায় এসেছেন। আরজি কর হাসপাতালের নারকীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ছবিটি তৈরি করছেন তিনি। আগামী আগস্ট মাস থেকে সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ছবি প্রসঙ্গে তিনি আগেই জানিয়েছেন, আরজি কর কাণ্ড নিয়ে এমন বহু অজানা তথ্য এই ছবিতে তিনি তুলে ধরবেন, যা আগে কেউ জানতে পারেনি। ছবিটির পরিচালনা শঙ্কুদেব নিজে করলেও অভিনয়ে কারা থাকছেন, তা এখনও আড়ালের কুয়াশাতেই রেখেছেন। শুধু ইঙ্গিত দিয়েছেন, কলকাতা ও কলকাতার বাইরের বেশ কিছু পরিচিত মুখকে এই ছবিতে দেখা যাবে।


















