চলতি সপ্তাহের প্রথম দু’টি সেশনে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও, সপ্তাহের তৃতীয় দিনেই বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ল ভারতীয় শেয়ার বাজার। বুধবার কার্যত ‘ভালুকের’ থাবায় রক্তাক্ত হল দালাল স্ট্রিট। এক ধাক্কায় বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স পড়ে গেল ১৬৭৭.১২ পয়েন্ট। বাজার বন্ধের সময়ে সেনসেক্স গিয়ে ঠেকেছে ৭৬ হাজার ৫০৩ পয়েন্টে। একই অবস্থা ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটিরও। ৫৫১.৯৫ পয়েন্ট পড়ে নিফটি বন্ধ হয়েছে ২৩,৮৪৬.৭৫ পয়েন্টে। এই নজিরবিহীন পতনের জেরে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লগ্নিকারীদের প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকা বাজার থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। আচমকা এই ধসে মাথায় হাত সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজার বিশেষজ্ঞদের।

শেয়ার বাজারে এই আকস্মিক ধসের নেপথ্যে রয়েছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। ইরান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ‘রণং দেহি’ মনোভাব এবং যুদ্ধবিরতি শেষের ঘোষণাই লগ্নিকারীদের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ট্রাম্প ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত দিতেই বিশ্ববাজারে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতের বাজারে। বুধবার লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রির প্রবল চাপ ছিল। নিফটির সব ক’টি ক্ষেত্রের বা সেক্টরাল সূচকই লোকসানে দৌড় শেষ করেছে। শুধু বড় শেয়ারই নয়, মাঝারি ও ছোট শেয়ারেও ধস নেমেছে। নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ সূচক ১.৯৭ শতাংশ এবং নিফটি মিডক্যাপ ১০০ সূচক ১.৫৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দানা বাঁধায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৬ ডলারে পৌঁছে যাওয়াতেই ভারতীয় বাজারের ওপর চাপ বাড়ে। কারণ ভারত প্রয়োজনের সিংহভাগ তেল আমদানি করে। তেলের দাম বাড়লে ভারতের অর্থনীতিতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর মার্কিন শেয়ার বাজার এবং স্টক ফিউচারের দরেও তীব্র পতন দেখা গিয়েছে। প্রধান চিপ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির শেয়ারের দর পড়ে যাওয়ায় নাসডাক কম্পোজিট সূচকও ০.৮ শতাংশ কমেছে। ভূরাজনৈতিক এই অস্থিরতা কত দিন চলবে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে আপাতত চরম উদ্বেগে রয়েছে লগ্নি মহল।