আরও এক বড় কেলেঙ্কারি বিজেপি-রাজ্যে। প্রশ্নফাঁস, মেডিক্যাল দুর্নীতি, রামমন্দির-প্রণামী লুঠের পর ইথানল কেলেঙ্কারির সঙ্গে বিজেপি এবার জড়াল ১২০০ কোটির চাল দুর্নীতিতে। এবার ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য মধ্যপ্রদেশ। দেশে দুর্নীতি, কেলেঙ্কারি আর বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলি। 

বিজেপি এখন মন্দিরের প্রণামীও ছাড়ছে না। ছাড়ছে না রামকেও। এবার ডাবল ইঞ্জিন মধ্যপ্রদেশে ভয়ানক কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। বিজেপির ওই রাজ্যে এফসিআই গুদাম থেকে ভর্তুকিযুক্ত চাল পাঠানো হয়েছে ইথানল উৎপাদনের কারখানায়। তা আবার পৌঁছে গিয়েছে প্রাইভেট রাইস মিলে। সেই চাল আবার বিক্রি করা হচ্ছে সরকারকে। সরকারি প্রকল্পের জন্য একই চাল কেনা হচ্ছে। এভাবেই ৫ লক্ষ টন চাল কেনাবেচায় দুর্নীতি সামনে এসেছে। এই দুর্নীতির পরিমাণ আনুমানিক ১২০০ কোটি টাকা। 

মোদি সরকার ১২ বছর পূর্ণ করতে না করতেই দুর্নীতির সমুদ্র নিমজ্জিত হয়ে গিয়েছে। নির্বাচনী বন্ড থেকে শুরু করে জমি দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ তো ছিলই, কেলেঙ্কারির সেই বিপুল তরঙ্গে এবার যুক্ত হল চাল দুর্নীতি। সম্প্রতি প্রশ্নফাঁসের দুর্নীতি, রামমন্দির থেকে বদ্রীনাথ-সহ একাধিক মন্দিরে প্রণামি আত্মসাতের মতো এবার চাল দুর্নীতি সামনে এসে পড়েছে। কোথায় গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা’র বুলি। ক্রমশই আর্থিক অনিয়মের ছায়া দীর্ঘতর হচ্ছে বিজেপি জমানায়। প্রতিদিনই একটা না একটা ঘটনা সামনে আসছে। আর বিজেপির আর্থিক দুর্নীতির ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রদেশ। গরিব মানুষের জন্য যে চাল বরাদ্দ, তা ঘুরপথে ফিরছে সরকারি ভাণ্ডারে। মাঝে হাজার হাজার কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়ে যাচ্ছে। তদন্তে নেমে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ গ্রেফতার করেছে চারজনকে। 

এফসিআইয়ের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর-সহ পাঁচজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তৈরি হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল। শুধু মধ্যপ্রদেশ নয়, দিল্লি ও উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যেও একইরকম দুর্নীতির খোঁজ মিলেছে। আর এই দুর্নীতির নেপথ্যে রয়েছে ইথানল। পেট্রোলের সঙ্গে মিশিয়ে ই-২০ পেট্রোল উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশজুড়ে এক বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারির চক্র সক্রিয়। ইথানল তৈরিতে চালের প্রয়োজন। আর সংস্থাগুলিকে সাহায্য করতে এফসিআই থেকে সস্তায় চাল পাঠানো হচ্ছে হঠাৎ করে দেশে গজিয়ে ওঠা ই-২০ পেট্রোল প্লান্টে। মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়ার একটি প্লান্টে তেমনই চাল পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু সেই সেখানে না পৌঁছে চলে যায় বালাঘাটে রাইস মিলে। এটি চাল দুর্নীতির হিমশৈলের চূড়া বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এই চক্রের শিকড়ের খোঁজ করতে গেলে অনেক রাঘব-বোয়াল বেরিয়ে পড়বে।