Site Logo

চার বিজেপি রাজ্যে দেড় হাজার কোটির মেডিক্যাল কেলেঙ্কারি! অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির

EBBS Desk··1 min read
চার বিজেপি রাজ্যে দেড় হাজার কোটির মেডিক্যাল কেলেঙ্কারি! অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির

মেডিক্যাল দুর্নীতির আঁতুড়ঘর চার গেরুয়া রাজ্য! উত্তরপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র ও রাজধানী দিল্লির স্বাস্থ্য-ব্যবস্থায় দেড় হাজার কোটির আর্থিক নয়ছয়! একের পর এক ডাবল ইঞ্জিন বিজেপি রাজ্য, একই কায়দায় মেডিক্যাল দুর্নীতির পর্দাফাঁস! উত্তরপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্রে বিগত কয়েকবছর ধরে এই দুর্নীতির শাখাপ্রশাখা ছড়ালেও কেন্দ্রশাসিত রাজধানী দিল্লিতে মাত্র ১৬ মাসের বিজেপি শাসনেই ৬৫০ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতি! সরকারি ভিজিল্যান্সের তদন্তেই উঠে এসেছে এই বিপুল দুর্নীতির সূত্র। ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশ দুর্নীতি দমন শাখা দিল্লি সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের ডিরেক্টর জেনারেল অব হেলথ সার্ভিস-সহ দুই শীর্ষ আধিকারিককে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু দিল্লির মতো ক্ষুদ্র সরকারের অন্দরে মুখ্যমন্ত্রী কিংবা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অজান্তে এত বড় দুর্নীতি কার্যত অসম্ভব! তাহলে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বা স্বাস্থ্যমন্ত্রী পঙ্কজকুমার সিং কবে গ্রেফতার হচ্ছেন? 

Sponsored

Sranchi In Article

দেশের রাজধানী দিল্লিতে পুরসভা বা সরকার পরিচালিত হাসপাতালের সংখ্যা মাত্র ৪২টি। ২৭ বছর পর ক্ষমতায় এসেই সরকারি হাসপাতালগুলির চিকিৎসা উপকরণ কেনার সব অধিকার কেড়ে নেয় রেখা গুপ্তার ডাবল ইঞ্জিন সরকার। পছন্দমতো ডিরেক্টর জেনারেল অব হেলথ সার্ভিস নিয়োগ করে সেন্ট্রাল প্রকিওরমেন্ট এজেন্সিকে সরকারি হাসপাতালগুলির জন্য চিকিৎসা-সামগ্রী কেনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর সেখান থেকেই শুরু হয় কয়েকশো কোটি আর্থিক দুর্নীতির পথচলা। মাত্র ১৫ টাকার ওআরএসের প্যাকেট রীতিমতো টেন্ডার করে কেনা হয় ২০৫ টাকায়! সরকারি হাসপাতালগুলির ইনডোর বিভাগে ১৫ হাজার শয্যার জন্য কেনা হয় ১৬ লক্ষ চাদর! তাও আবার দেড়শোর বদলে ৪৫০ টাকায়! এছাড়াও ৪৪৮টি ১০ লক্ষ মূল্যের পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন কেনা হয়েছে ৩৩ লক্ষ টাকায়! ৪৫ কোটির সম্ভাব্য বিল একলাফে হয়েছে ১৪৮ কোটি! আবার ২৫ লক্ষ মূল্যের রেডিওলজিক্যাল যন্ত্র কেনা হয়েছে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকায়! মাত্র ১৬ মাসেই রেখা গুপ্তার গেরুয়া শাসনে সবমিলিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে প্রায় ৬৫০ কোটির আর্থিক কেলেঙ্কারি! 

 

শুধু দিল্লি নয়। বিজেপির সর্বভারতীয় মেডিক্যাল দুর্নীতির শীর্ষস্থানে রয়েছে যোগীর উত্তরপ্রদেশ। চলতি মাসের গোড়ায় লখনউয়ের কিং জর্জ’স মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ধরা পড়েছে বিরাট আর্থিক নয়ছয়। মুড়িমুড়কির মতো বিক্রি হয়েছে কোটি টাকার ক্যানসারের ইনজেকশন! ২০২৫ সালের শেষদিকে ওই হাসপাতাল থেকে প্রতি মাসে ১০ লক্ষ ক্যানসারের ওষুধ দেওয়া হত রোগীদের। কিন্তু চলতি বছরের মার্চেই সেটা পৌঁছে যায় ৪৫ লক্ষে! জানা যায়, অজ্ঞাতপরিচয় রোগীদের দেওয়া হয় প্রায় ২ কোটি টাকার ওষুধ-ইনজেকশন! একডজনের বেশি রোগীর বুকে ৫ বার বসানো হয় স্টেন্ট! 

মেডিক্যাল দুর্নীতিতে পিছিয়ে নেই আর এক বিজেপি রাজ্য মহারাষ্ট্রও। সেখানে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির অধীনে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বাদের রক্তাল্পতা রোধে সরবরাহ করা আয়রন সিরাপ ‘ফেল’ করেছে গুণমানের পরীক্ষায়। গেরুয়া মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সরকার ‘লোক দেখানো’ ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্ত ওষুধপ্রস্তুতকারক সংস্থাকে দু’বছরের জন্য ব্ল্যাকলিস্ট করলেও একমাসের মধ্যে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়! সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, খুব তাড়াতাড়ি ওই সংস্থা কয়েকশো কোটি টাকার নতুন একটি বরাত পেতে চলেছে। 

তবে এই মেডিক্যাল দুর্নীতি মডেলের পথপ্রদর্শক অবশ্যই ডাবল ইঞ্জিন ছত্তিশগড়। সে-রাজ্যের সরকারি অডিট রিপোর্টেই ফাঁস হয়েছে আর্থিক নয়ছয়। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সরকারি টেন্ডারের বাইরেও ছত্তিশগড় মেডিক্যাল সার্ভিসেস কর্পোরেশনকে চিকিৎসা-সামগ্রী বিক্রি করে একটি সংস্থা। যেখানে মাত্র সাড়ে আট টাকার রক্ত সংগ্রহের ইডিটিএ টিউব কেনা হয় ২,৩৫২ টাকায়! আবার বাজারে ৫ লক্ষ টাকার কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি) মেশিন ওই সংস্থার কাছ থেকে কেনা হয় ১৭ লক্ষ টাকায়! সরকারি টেন্ডার ছাড়াই এক বহিরাগত সংস্থার থেকে ২ বছর ধরে অগ্নিমূল্যে চিকিৎসা-সরঞ্জাম কিনে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ৫৫০ কোটি! স্বাস্থ্যক্ষেত্রের দুর্নীতি এভাবে সর্বভারতীয় প্রবণতায় পরিণত হওয়ায় দেশ জুড়ে মুখ পুড়ছে বিজেপির।

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from দেশ

View All →