মসজিদের পুরোটাই ভেঙে ফেলা হচ্ছে—AI দিয়ে তৈরি এমন ভুয়ো ভিডিয়ো ছড়িয়েই কী উজ্জয়িনীতে উত্তেজনার আগুন ছড়ানো হয়েছিল? পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে শাহী মসজিদ নিয়ে তৈরি AI-জেনারেটেড একাধিক ভুয়ো ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিয়ো ঘিরে গুজব ছড়ায় এবং মসজিদের সামনে বড় জমায়েত তৈরি হয় বলে দাবি পুলিশের। এরপরই রবিবার রাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মসজিদের একটি অংশ সরানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে জড়ো হওয়া জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস এবং মৃদু বলপ্রয়োগ করে পুলিশ, এমনটাই জানা যায়।

তদন্তে নেমে পুলিশের দাবি, ভাইরাল হওয়া কয়েকটি AI ভিডিয়োতে এমনভাবে দেখানো হয়েছিল যেন গোটা শাহী মসজিদই ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। অথচ বাস্তবে রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য মসজিদের শুধুমাত্র একটি অংশ সরানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনটি থানায় মোট ৮টি FIR দায়ের হয়েছে। নাম রয়েছে ২০ জনের। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। AI-নির্মিত ভিডিয়ো এবং উসকানিমূলক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ছড়ানোর অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। উজ্জয়িনীর পুলিশ সুপার প্রদীপ শর্মার দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো এই ধরনের পোস্টই মসজিদের সামনে বিপুল সংখ্যক মানুষকে জড়ো হতে সাহায্য করেছে। ঘটনাস্থলে CCTV এবং ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাথর ছোড়ার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের উপর নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। ভিডিয়োগুলি কোথা থেকে তৈরি ও ছড়ানো হয়েছিল, কারা সেগুলি প্রচার করেছিল—সেই সূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, মসজিদ-সংক্রান্ত নুমাইন্দা কমিটির সদস্য ফাহিম সিকান্দরের বক্তব্য, রাস্তা সম্প্রসারণে মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। মসজিদের যে অংশটি রাস্তার নির্ধারিত অংশের মধ্যে পড়ছে, সেটি সরাতেও সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যন্ত্রপাতি না আনায় স্থানীয়রা নিজেরা সেই অংশ সরানোর কাজ শুরু করেছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে ঠিক কতটা অংশ সরানো হবে, তা নিয়েই কিছুটা মতপার্থক্য ছিল। কোথাও তিন ফুট, কোথাও আট ফুট পর্যন্ত অংশ সরানোর কথা আলোচনায় আসে। মুসলিম পক্ষের আইনজীবীর দাবি, প্রশাসন প্রথমে প্রায় সাড়ে ৯ ফুট অংশ সরানোর কথা বলেছিল। পরে আলোচনার মাধ্যমে প্রায় তিন ফুট অংশ সরানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়। এই নিয়ে আইনি জটও তৈরি হয়েছিল। সোমবার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত দুটি আপিলের নিষ্পত্তি হয়। মুসলিম পক্ষ আদালতকে জানায়, উজ্জয়িনী পুরসভার সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। 

 

এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর রাস্তার নির্ধারিত অংশে থাকা মসজিদের ওই অংশ সরানোর অনুমতি দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর সোমবার ফের মসজিদের প্রভাবিত অংশ সরানোর কাজ শুরু করেন মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা। মসজিদ কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে কাজ আবার চলবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সাত থেকে আট দিন সময় লাগতে পারে। রবিবারের উত্তেজনার পর এখন উজ্জয়িনীতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের ফ্ল্যাগ মার্চ চলছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। গুজব এবং উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়ানো ঠেকাতে সোশ্যাল মিডিয়ার উপরও নজর রাখছে প্রশাসন।