প্রেমানন্দ মহারাজের (Premanand Maharaj) শিষ্য রসিক দুলারি শরণ (Rashik Dulari Sharan) ওরফে দীপক লোঢীর (Deepak Lodhi) মৃত্যু ঘিরে রহস্য বাড়ছে। বৃন্দাবনের (Vrindavan) গুরুকৃপা কুঞ্জ আশ্রমে ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। আশ্রমের চারতলায় থাকতেন রসিক। সেখান থেকেই তিনি পাঁচতলার ছাদে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর ছাদ থেকে নীচে পড়ে যান রসিক।
আরও পড়ুন: জনগণের সঙ্গে প্রতারণা! বিশ্বাসঘাতক কমিশনের বিরুদ্ধে বুধের বৈঠকেই মুখ খুলবেন মমতা
তদন্তকারীদের নজরে এখন মৃত্যুর আগের ১১ মিনিট। কারণ এই সময়ের মধ্যেই রসিক ঘর থেকে বেরিয়ে ছাদে পৌঁছন। পরে তাঁকে ছাদ থেকে পড়ে যেতে দেখা যায়। সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে পাঁচতলা থেকে পড়ে যান।
আরও পড়ুন: গীতাঞ্জলি থেকে গণদেবতা: ট্রেনের নামে মিশে রয়েছে সাহিত্যের ছোঁয়া!
পুরো ঘটনাটির বেশ কিছু অংশ সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। ঘর থেকে বেরিয়ে কিছুক্ষণ আশ্রমের বাইরে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় রসিককে। পরে তিনি পাঁচতলায় যান। সেখানে ছাদে বসেছিলেন। এক সময় তাঁকে প্রায় ১০ সেকেন্ডের জন্য শুয়েও থাকতে দেখা যায়। এরপরই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। তবে ঘর থেকে বেরোনোর আগে কী হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ঘর থেকে বেরোনোর সময় রসিকের নিম্নাঙ্গের পরনের বস্ত্রে রক্তের দাগ ছিল। তাঁর ঘর থেকে একটি গ্রাইন্ডার মেশিনও উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। রসিকের যৌনাঙ্গে গুরুতর আঘাত ছিল বলে জানা গিয়েছে। শরীরের আরও কয়েকটি জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ফলে মৃত্যুর আগে তাঁর ঘরের ভিতরে ঠিক কী হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রসিকের মোবাইল ফোনও পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। তাঁর চ্যাট এবং ভিডিয়োবার্তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুর আগে কারও সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যার সন্দেহ করা হলেও তদন্তকারীরা এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছেন না। সিসিটিভি ফুটেজ, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং রসিকের ফোনের তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যেই রসিকের পরিবারের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন না। পরিবারের এই বক্তব্যও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
















