মেয়ে মানেই মাংসপিণ্ড, তাই ঝাঁপিয়ে পড়ে খুবলে ক্ষতবিক্ষত করতে চাওয়া 'ধর্ষক' মানসিকতা দেখে না বিপরীত লিঙ্গের বয়স। সাত বছরের শিশু যাঁকে "আঙ্কেল" বলে ডাকতো সে যে বাড়িতে একা পেয়ে তাঁকে ধর্ষণ করে ক্ষতবিক্ষত করে দেবে তা আগে বুঝতে পারেনি নাবালিকা। যন্ত্রনা ক্লিষ্ট দেহে ভয়ে কুঁকড়ে গেলেও পরে সে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছে। আদালতে ধর্ষকের দিকে আঙ্গুল তুলে বলতে পেরেছে, "এই সেই আঙ্কেল, যে সেদিন আমাকে....", এতটা বলার পরই কান্নায় ভেঙে পড়েছে মেয়ে। তিন বছর আগের ঘটনায় আসামির কী শাস্তি হতে পারে তা নাবালিকার জানা ছিল না। তবে ২০২৩ এর ঘটনায় ২০২৬ সালে এসে শাস্তি দিল আদালত। আইনের কেজো ভাষাকে ফাইলে বন্দি করে, আবেগের ভাষায় নির্যাতিতাকে চিঠি লিখলেন বিচারক। জানালেন, 'তোমার আঙ্কেল আর কোনওদিন ছাড়া পাবে না'।
আরও পড়ুন: পরিচারিকা থেকে ‘পিঙ্ক ক্যাবে’র মালকিন! এক লড়াইয়ের নাম মানসী মৃধা
দিল্লির রোহিণী আদালতের বিচারক রজনীরাঙ্গা ধর্ষণ মামলার রায়ে নির্যাতিতা নাবালিকাকে অভয়বার্তা দিয়ে আসামি সুমিত শাক্যকে (Sumit Sakya) আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। গত তিন বছরে একাধিকবার কোর্টে যেতে হয়েছে নাবালিকাকে। খুদে মস্তিষ্ক বুঝে উঠতে পারেনি, ধর্ষকের কোন শাস্তি হলে সেটা তাঁর উপর হওয়া নৃশংস অন্যায়ের যথার্থ বিচার হবে। শুধু মুখ ফুটে বলতে পেরেছিল, 'বুড়ো হওয়ার আগে যেন এই আঙ্কেল কিছুতেই জেল থেকে বের হতে না পারে।' নির্যাতিতার সেই আবেদন শুনেছেন বিচারক। রায়ের লিখিত কপির পাশাপাশি লিখেছেন একটি চিঠি, যেখানে সরাসরি অভিযোগকারিণীর সাহসের প্রশংসা করেছেন। বিচারক লেখেন, ‘আমরা হয়তো তোমার শৈশব ফিরিয়ে দিতে পারব না, কিন্তু কথা দিচ্ছি— যে ‘আঙ্কেল’ তোমার এত বড় ক্ষতি করেছে, সে এই জেলের খাঁচাতেই বুড়ো হবে, এখানেই মরবে…জীবনে কোনও দিন জেল থেকে বেরিয়ে তোমার বা আর কারও ক্ষতি করতে পারবে না।’
নাবালিকা চিঠির ব্যাপারে শুনেছিল আগেই, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে এবার তা প্রিন্ট হয়ে পৌঁছে যাচ্ছে তাঁর হাতে। 'ধর্ষক' জেল থেকে বেরোনোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও আসামি নিজেকে শাস্তির হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি। নিম্ন আদালতের বিচারক নাবালিকাকে নির্ভয়ে স্কুলে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা এবং হাসিমুখে আগামির স্বপ্ন দেখার কথা বলেছে। শিশু মন স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে চলেছে প্রতিমুহূর্তে। বারবার ফিরে আসে ট্রমা কিন্তু তাঁর আঙ্কেল যে শাস্তি পেয়েছে এটা তাঁর মনের ভয় অনেকটা কমিয়েছে। সুমিত নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও রায় বদল হয়নি। আগামী ২০ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানি। তবে দু’সপ্তাহের মধ্যে ওই চিঠি এবং ক্ষতিপূরণের সাড়ে ১০ লক্ষ টাকা মেয়েটির পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কোর্ট। এটা আদালত ও একটি বালিকার এই সময়ের বাস্তব কাহিনী।
















