একদিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-এর কড়া নিয়ম, অন্যদিকে শতবর্ষ প্রাচীন টাটা গোষ্ঠীর নিজস্ব পরিচালনা কাঠামো ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা। শেয়ারবাজারে টাটা সন্সের আইপিও (IPO) বা তালিকাভুক্তি আটকাতে এবার এক নজিরবিহীন ও বিরাট চাল চালল নোয়েল টাটার নেতৃত্বাধীন টাটা ট্রাস্টস।

আরও পড়ুন: স্টেশনের কোথায় কখন ‘হাই ফুটফল’, আগেই হিসেব কষবে RPF

কী এই নতুন প্রস্তাব? টাটা সন্সের প্রধান অংশীদার হল টাটা ট্রাস্টস যাদের হাতে রয়েছে প্রায় ৬৬% মালিকানা। সোমবার টাটা ট্রাস্টসের পক্ষ থেকে টাটা সন্সের বোর্ডকে একটি বড়সড় পুনর্গঠনের বা সংযুক্তিকরণের (Merger) প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, টাটা গোষ্ঠীর দুটি আনলিস্টেড অপারেটিং কোম্পানি— টাটা ইলেকট্রনিক্স সিস্টেমস সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড (TESS) এবং টাটা কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স (TCE)-কে সরাসরি মূল হোল্ডিং কোম্পানি ‘টাটা সন্স প্রাইভেট লিমিটেড’ (TSPL)-এর সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: অরুণাচলে টহলরত নিরাপত্তা বাহিনীর উপর জঙ্গি হামলা! মৃত জওয়ান

আসলে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) টাটা সন্সকে ‘আপার লেয়ার এনবিএফসি’ (NBFC-Upper Layer) বা ‘কোর ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ (CIC) হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। নিয়ম অনুযায়ী, এই তকমা থাকলে সংস্থাকে বাধ্যতামূলকভাবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতেই হবে।

টাটা ট্রাস্টসের যুক্তি হল, যদি এই দুটি বড় অপারেটিং সংস্থাকে টাটা সন্সের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়, তবে টাটা সন্সের নিজস্ব ব্যবসায়িক আয় ও সম্পদের খতিয়ান এক ধাক্কায় অনেক বদলে যাবে। এর ফলে সংস্থাটি আর কোনও ‘এনবিএফসি’ বা ‘কোর ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’-র সংজ্ঞার মধ্যে পড়বে না। তকমা মুছে গেলেই আইপিও আনার আইনি বাধ্যবাধকতা থেকেও সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া যাবে। এই পরিকল্পনার জন্য ইতিমধ্যেই আরবিআই-এর কাছে অনাপত্তি শংসাপত্র (NOC) চাওয়ার প্রক্রিয়া ভাবা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: চাকরির নিরাপত্তার দাবিতে মঙ্গলেও বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ জারি কম্পিউটার শিক্ষকদের

এই মুহূর্তে টাটা গোষ্ঠীর অন্দরে নোয়েল টাটা বনাম টাটা সন্সের ম্যানেজমেন্ট, যার নেতৃত্বে রয়েছেন এন চন্দ্রশেখরনের এক ঠান্ডা যুদ্ধ বা মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা প্রথম থেকেই শেয়ারবাজারে লিস্টিংয়ের তীব্র বিরোধী। তাঁর মতে, টাটা সন্স পাবলিক লিমিটেড হয়ে গেলে শেয়ারহোল্ডারদের চাপে তাদের শতবর্ষ প্রাচীন জনকল্যাণমূলক চরিত্র ও কাজের স্বাধীনতা নষ্ট হতে পারে। চন্দ্রশেখরনের চেয়ারম্যান পদে পুনর্নিয়োগের প্রস্তাবেও একমাত্র নোয়েল টাটাই বিপক্ষে ভোট দিয়ে সেটিকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছিলেন। টাটা সন্সের বোর্ডের একটি বড় অংশ এবং সংস্থার দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার শাপুরজি পালনজি (SP) গ্রুপ আবার লিস্টিংয়ের পক্ষে। এসপি গ্রুপের বিপুল দেনা মেটানোর জন্য টাটা সন্সের আইপিও আসা অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন: বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুর পাশে মুখ্যমন্ত্রী, ‘জনতার দরবারে’ অসহায় পরিবারকে আশ্বাস

নোয়েল টাটার এই নতুন ‘কর্পোরেট চাল’ যদি সফল হয়, তবে টাটা সন্সকে কোনভাবেই শেয়ারবাজারে আসতে হবে না এবং বম্বে হাউসের রাশ পুরোপুরি ট্রাস্টের হাতেই থাকবে। তবে এই প্রস্তাব পাশ করাতে হলে শেয়ারহোল্ডারদের অন্তত ৭৫% ভোট এবং আরবিআই-এর সবুজ সংকেত প্রয়োজন। এখন দেখার, আরবিআই এবং টাটা সন্সের বোর্ড নোয়েলের এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে খেলা ঘোরাতে দেয় নাকি আইপিও-র পথেই এগোয়।