প্রকাশ্যে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) অভ্যন্তরীণ সংঘাত। উঠছে জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবি। আর এবার সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা করলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge)। কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক গোষ্ঠী ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক থেকে তাঁর অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রভাবাধীন হয়ে পড়েছেন। অবিলম্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করতে হবে। একইসঙ্গে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নরেন্দ্র মোদির নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছেন খাড়গে। কংগ্রেস সভাপতি বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার কেন্দ্রীয় সরকারের হাতের পুতুল। তাই কমিশনের সিদ্ধান্তে সুবিধা পাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল। বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের স্বপদে বহাল থাকার বিন্দুমাত্র নৈতিক অধিকার নেই।”
আরও পড়ুন: সীমান্ত সন্ত্রাস আটকাতে বদ্ধপরিকর ভারত, পাক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আমেরিকাকে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের!
সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ ওঠে, এসআইআর (SIR) নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। কমিশনের মধ্যে যে বিরোধ সামনে এসেছে তা নিয়েও এদিন সরব হন খাড়্গে। তিনি বলেন, “কমিশনারদের পারস্পরিক এই মতবিরোধ থেকেই প্রমাণিত হয় যে বর্তমান শীর্ষকর্তা শাসক শিবিরকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্যই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন।এমন পরিস্থিতিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদে থাকাই উচিত নয়।” সেইসঙ্গে অবিলম্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর দাবিও জানিয়েছেন খাড়গে।
এদিন এসআইআর-এর পদ্ধতি ও ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে কংগ্রেস। ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক থেকেই পাঁচ দফা দাবি সামনে এনেছেন খাড়গে।
কংগ্রেসের প্রথম দাবি, ভোটার তালিকায় যে কোনও ধরনের সংশোধন বা পরিবর্তনের সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে আনতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে জানতে পারেন, কোথায় কত নাম বাদ গিয়েছে, কোথায় নতুন নাম যুক্ত হয়েছে এবং কী ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছে সেই তথ্য সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে দল।
দ্বিতীয়ত, ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে আপিল করার এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাম পুনর্বহালের সুযোগ দিতে হবে। কংগ্রেসের বক্তব্য, ভোটাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও নাগরিক যাতে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয় দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলিকে সময়মতো ভোটার তালিকা সরবরাহ করতে হবে। যাতে রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের মতো করে তথ্য যাচাই করতে পারে।
চতুর্থ দাবিতে ভোটার তালিকায় গুরুতর অসঙ্গতির অভিযোগ উঠলে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। শুধু তদন্ত নয়, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেই তদন্ত শেষ করার পক্ষেও সওয়াল করেছে কংগ্রেস।
পঞ্চম এবং শেষ দাবিতে ‘ফর্ম ৬’-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, এই ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে। দলের দাবি, নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির গোটা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে হবে।
এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি, নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন নাম যুক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলি। তার মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তুলে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও চড়া সুরে নিয়ে গেলেন খাড়গে।
















