ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়! পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ করার আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

পর্নোগ্রাফি নিয়ে ফের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, দেশব্যাপী পর্নোগ্রাফি দেখার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সম্ভব নয়। একটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করা রাষ্ট্রের কাজ হতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় দেশজুড়ে নতুন করে এক ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
Sponsored

আদালতে দায়ের করা ওই জনস্বার্থ মামলায় আবেদনকারী দাবি করেছিলেন, পর্নোগ্রাফি সমাজের নৈতিকতা, যৌন স্বাস্থ্য এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মানসিকতার ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। তাই দেশজুড়ে এর উৎপাদন, প্রচার এবং দেখার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এই আবেদন খারিজ করে দিয়ে জানায়, এ ধরনের ঢালাও নিষেধাজ্ঞা মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকারকে ক্ষুন্ন করে।
Sponsored

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রায়ে উল্লেখ করেছে, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা নিজেদের ব্যক্তিগত পরিসরে কী দেখবেন, তা রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আদালত কোনোভাবেই নৈতিক পুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে না। তবে বিচারপতিরা এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যদি কোনো নির্দিষ্ট ধরনের পর্নোগ্রাফি শিশু যৌন নির্যাতন বা নারীর অসম্মতির সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে এর ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা বাস্তবসম্মত নয়।
Sponsored

শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর দেশের বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদলের মতে, আদালতের এই রায় অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সঠিক। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কনটেন্ট সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব। আইনি নিষেধাজ্ঞা দিলেও মানুষ বিকল্প উপায়ে তা দেখার পথ খুঁজে নেবে। তাই নিষেধাজ্ঞার পথে না হেঁটে সচেতনতা এবং ইন্টারনেটের দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া উচিত।
Sponsored

অন্য দিকে, অনেক সমাজকর্মী ও অভিভাবক এই রায়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, অবাধ পর্নোগ্রাফির কারণে তরুণ প্রজন্ম বিপথগামী হচ্ছে, যার ফলে সমাজে যৌন হিংসার ঘটনা বাড়ছে এবং সুস্থ সম্পর্কের ধারণা বদলে যাচ্ছে। এক মনোবিদের মতে, পর্নোগ্রাফির আসক্তি বহু যুবকের মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আদালত আইনি দিকটি দেখলেও, এর সামাজিক ক্ষতির দিকটি কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
Sponsored

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, তারা আদালতের এই রায়কে সম্মান জানাচ্ছে। তবে শিশু পর্নোগ্রাফি এবং অবৈধ কনটেন্টের বিরুদ্ধে সরকারের যে কঠোর অবস্থান রয়েছে, তা বজায় থাকবে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু সন্দেহভাজন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই মামলাটি আরও একবার প্রমাণ করল যে, ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সামাজিক সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কতটা বড় চ্যালেঞ্জ।
Sponsored

Related Articles

ককরোচদের উপর লাঠিচার্জের প্রতিবাদ করে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-অখিলেশ! মোদির বাসভবনের সামনে উত্তেজনা
10h ago

‘নেতা-মন্ত্রীরা নিজেদের ভগবান মনে করছেন? ছাত্র-বিক্ষোভে লাঠিচার্জে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন অরিজিৎ
10h ago

ককরোচদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ! জবাব চাইতেই মোদির বাড়ির সামনে বিক্ষোভ রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের
11h ago

ওয়াংচুকের চিকিৎসায় হাসপাতাল বদলের অনুমতি আদালতের
14h ago

আজ কোথায় কত দাম পেট্রোল-ডিজেলের? দেখে নিন এক নজরে
14h ago

পাশে নেই কর্মী-সমর্থকরা, দিল্লিতে কোনওমতে একুশে জুলাই পালন সুদীপ-কাকলিদের
15h ago





