যাত্রী-সুরক্ষা দুরস্থ্, যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্যটুকুও নেই ভারতীয় রেলে। চূড়ান্ত অব্যবস্থা সর্বত্র। স্টেশনগুলিতে পরিকাঠামোর অভাব স্পষ্ট। মোদি-জমানায় রেলের সাড়ে সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে। যে রেল ব্যবস্থার উপর দেশের সিংহভাগ পরিবহণ নির্ভর করে আছে, সেখানেই আজ চূড়ান্ত গাফিলতি। রেলযাত্রীরা ন্যূনতম পরিষেবা থেকে বঞ্চিত দিনের পর দিন। সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে নিয়ে এনেছে ভারতের কম্পট্রলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা ক্যাগ। রিপোর্টে প্রকাশ, ৫১২টি স্টেশনের মধ্যে ৪৫৮টিই ডাহা ফেল। আর এই রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গের চিত্র আরও করুণ। সারাদেশে যে ৫৪টি স্টেশন পাশ করেছে, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মাত্র ২টি স্টেশন রয়েছে। বাকি সব ফেলের তালিকায়। 

মোদি সরকার দেশকে বুলেট ট্রেনের রঙিন স্বপ্ন দেখাচ্ছে, নিত্যদিন নতুন নতুন বন্দে ভারত চালু করছে, চালু হচ্ছে অমৃত ভারত এক্সপ্রেস। কিন্তু যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্যে ন্যূনতম পরিষেবা দিতে পারছে না রেল। বলা ভালো, যাত্রী-সুরক্ষা বা যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্য— মোটকথা কোনও যাত্রী পরিষেবা দিতে চাইছে না কেন্দ্রের সরকার। কলে জল পাবেন না, বসার ব্যবস্থা নেই, ফ্যান হাতে-গোনা, ‘স্বচ্ছ ভারতে’র রেল টয়লেটের করুণ অবস্থা, প্ল্যাটফর্ম শেল্টার নোংরা-অপরিচ্ছন্ন, ঘড়ি থেকে অ্যানাউন্সমেন্ট বোর্ড নামেই ঝুলিয়ে রাখা হয়, যত্রতত্র নোংরা-আবর্জনা, প্ল্যাটফর্মগুলির সিঁড়ির অবস্থা ভয়াবহ। এই হল ভারতীয় রেলের স্টেশনগুলির হাল-হকিকত। 

সম্প্রতি যে ক্যাগ রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ফেল করেছে দেশের ৮৯ শতাংশ স্টেশনই। দেশের ৫১২টি স্টেশনকে বেছে নিয়ে ভিড় ও রোজগারের ভিত্তিতে ৬টি ভাগে ভাগ করা হয়। সেই মতো তৈরি করা হয় রিপোর্ট। ৫১২টি স্টেশনের মধ্যে ৪৫৮টি স্টেশনই পরীক্ষায় পাশ করতে ব্যর্থ। এই ব্যর্থতার তালিকায় আবার ১৮৭টি অমৃত ভারত স্টেশনও রয়েছে! তা হলেই ভেবে দেখুন মোদির অমৃত ভারতের কী দুরবস্থা! পরিষেবার বালাই নেই শুধু প্রচারসর্বস্ব মোদির ঢক্কানিনাদের উপর চলছে রেল।

রিপোর্টে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে, পর্যাপ্ত পাখা নেই ৪২ শতাংশ স্টেশনে। পানীয় জল থাকে না ২৭ শতাংশ স্টেশনে। ২২ শতাংশ স্টেশন ফেল টয়লেট পরিষেবায়। এ ছাড়া ১৫ শতাংশ স্টেশন ফেল বসার ব্যবস্থায় এবং ১৩ শতাংশ স্টেশন ফেল প্ল্যাটফর্ম শেল্টারে। 

এ তো গেল যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা। রেলের পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম বহু স্টেশনে জঘন্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও যাত্রীদের ট্রেনের আপডেট দেওয়া হয় না বড় স্টেশনগুলিতেও। রিপোর্টে এই ক্যাটাগরিতেও ধাক্কা খেয়েছে বহু স্টেশন। পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে হাওড়া, শিয়ালদহ, সাঁতরাগাছি, নৈহাটি, বর্ধমান, ব্যান্ডেল, আসানসোল, কলকাতা টার্মিনাল-সহ একাধিক স্টেশনকে নিয়ে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে বাংলার মধ্যে মাত্র দুটি স্টেশন... কাঁথি ও সোনামুখী সফল হয়েছে পাশ করতে! 

এ-প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, রেল পরিষেবা সর্বদিক থেকেই বিপর্যস্ত। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে রয়েছে ভারতীয় রেল। যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্য, সুরক্ষা, পরিষেবা, সময়ানুবর্তিতা... সামগ্রিক ব্যবস্থাটিরই বারোটা বেজে গিয়েছে। এই সরকারের পরিষেবা দেওয়ার বালাই নেই, শুধু বিজ্ঞাপন চালাচ্ছে কীভাবে বেসরকারি হাতে দেওয়া যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যত দিন রেলমন্ত্রী ছিলেন, বাংলা সুবিধা পেয়েছে। রেলের ক্যাগ রিপোর্ট আরও বিস্তারিত পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, সর্বাঙ্গীন অবনতির একটা প্রতিফলন আছে।