প্রথম ১৫ দিনেই মোদি সরকারের ভিবি জি-রামজি প্রকল্পে তাৎপর্যপূর্ণভাবে কমেছে শ্রমিকের সংখ্যা। সম্প্রতি একটি রিপোর্টে প্রকাশ, ৬৭ লক্ষ শ্রমিক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এই ১২৫ দিনের কাজ থেকে। কেন এই পতন? প্রশ্ন উঠেছে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নীতিমালা নিয়ে। মনরেগা বা ১০০ দিনের কাজ নিয়ে তাদের বঞ্চনা ও অবহেলাও শ্রমিকদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার অন্যতম কারণ।মনরেগাকে ডাস্টবিনে ফেলে নব কলেবরে ১ জুলাই থেকে চালু হয়েছে ভিবি জি-রামজি প্রকল্প। ১০০ দিনের কাজ এখন করা ১২৫ দিনের। কিন্তু সেই কাজে প্রথম দু’সপ্তাহে নথিভুক্ত কর্মীর সংখ্যা বর্তমানে নিম্নমুখী। হয়েছে বলে অভিযোগ।
লিবটেক ইন্ডিয়া তাদের রিপোর্টে দাবি করেছে, মনরেগা যেভাবে আলোড়ন তুলেছিল, নতুন রূপে জি রাম-জিতে মানুষের আস্থা নেই। নথিভুক্ত শ্রমিক সংখ্যা ২৭ কোটি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ৩৩ লক্ষ। ৬৭ লক্ষ ৬০ হাজার শ্রমিক তাঁদের নাম ভিবি জি-রামজিতে নথিভুক্ত করেননি। সমীক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, শুধু মোট সংখ্যায় পতন নয়, উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে সক্রিয় শ্রমিকের সংখ্যাও। রিপোর্ট বলছে, বিগত তিন বছরে অন্তত একবার মনরেগা প্রকল্পে কাজ করেছেন ১০ কোটি ৮৪ লক্ষ শ্রমিক। সেই সংখ্যা নয়া প্রকল্পে কমে দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৫৭ লক্ষ। অর্থাৎ সক্রিয় শ্রমিক কমেছে ২৬ লক্ষ ৩০ হাজার। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক এই রিপোর্টকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের দাবি, এই স্বল্প সময়ে কোনও প্রকল্পের মূল্যায়ন হয় না। প্রত্যেক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে আরও সময় দিতে হবে প্রকল্পকে ধারাবাহিক করতে। তারপর কর্মী ও জব কার্ডের রেকর্ডের যাচাই করেই বুঝতে হবে কতটা ফলপ্রসু নয়া প্রকল্প। সরকারি আধিকারিকদের দাবি, নথিভুক্ত ও সক্রিয় কর্মীর সংখ্যা সদা পরিবর্তনশীল। তবু প্রথম ১৫ দিনের নিরিখে তো ব্যর্থ এই প্রকল্প? সেই ব্যর্থতাযর দায় রাজ্যগুলির উপর চাপিয়েই ক্ষান্ত কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। তাঁদের যুক্তি, কেন্দ্রের নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি অনুসরণ করে নাম বাদ দিতে হবে। হবে। ই-কেওয়াইসি বা ফেস অথেন্টিকেশন সম্পন্ন না করার কারণে কাজ না পাওয়ার বিষয়ে কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বরং নতুন আইনের অধীনে ১ লক্ষ ৯১ হাজার শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮৪ হাজার শ্রমিকের গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ডের আওতায় এসেছে ইতিমধ্যেই।
















