যোগী-রাজ্যে ঝলসে মৃত তরুণীর নিথর দেহ এল জগৎবল্লভপুরের বাড়িতে

উত্তরপ্রদেশের লখনৌয়ে আগুনে পুড়ে মৃত হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের তরুণী অনামিকা সামন্তর (২৭) কফিনবন্দী নিথর দেহ বুধবার আনা হল জগৎবল্লভপুরের গড়বালিয়ার পৈতৃক বাড়িতে। তাঁকে শেষ দেখা দেখতে ভিড় জমান এলাকার বহু মানুষ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। জানা গেছে, লখনৌয়ের অলিগঞ্জের একটি আবাসনের দোতলায় ছিল ‘হেড হপার স্টুডিওস’ নামে একটি স্টুডিও। সেখানেই গত প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে কাজ করতেন অনামিকা। সেই সূত্রেই লখনৌয়ে থাকতেন তিনি। গত সোমবার ওই বিল্ডিংয়েই আগুন লেগে যায়। নীচে একটি পেট শপ ছিল। দোতলায় স্টুডিও। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রথমে গ্রাউন্ড ফ্লোরের পেট শপেই আগুন লাগে। সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাড়িটিতে। ওই আবাসনে কার্যত ছিল না কোনও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। যোগি-রাজ্যে এই ধরনের বহুতল আবাসনে যথাযথ অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা ছাড়াই কি করে এইরকম স্টুডিও বা পেট-শপের মতো ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলি চলতো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্টুডিওতেই কাজ করতেন অনামিকার হবু স্বামী নীলেশ কুমার (২৮)। তাঁর সঙ্গে নভেম্বরে বিয়ে ঠিক হয়েছিল অনামিকার। এই উদ্দেশ্যে সমস্ত তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছিল দুই পরিবার। কিন্তু আগুনে পুড়ে অনামিকা ও তাঁর হবু স্বামী নীলেশ দু’জনেরই মৃত্যু হয়। সোমবার সন্ধ্যাতেই খবর আসে অনামিকার বাড়িতে। জগৎবল্লভপুরে পৈতৃক বাড়ি হলেও অনামিকারা সপরিবারে থাকতেন নিউ আলিপুরে। ওখানে অনামিকার বাবা বিশ্বনাথ সামন্তর গ্যারাজের ব্যবসা আছে। তাঁর মা সুলেখা গৃহবধূ। মঙ্গলবার অনামিকার মা-বাবা, কাকা এবং ভাই লখনৌয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিমানবন্দর থেকে তাঁরা যান মর্গে। সেখানেই অনামিকাকে শনাক্ত করেন তাঁরা। মৃতার কাকা বিদ্যুৎ সামন্ত বলেন, ‘ভাইঝির পুরো দেহটাই আগুনে ঝলসে গিয়েছিল। চেনাই মুশকিল হচ্ছিল। শেষে মুখের কিছুটা অংশ দেখে ভাইঝিকে শনাক্ত করে দাদা-বৌদি।’ বিশ্বনাথ ও সুলেখার এক ছেলেও রয়েছে। তবে অনামিকাই বড়। গত সপ্তাহে চূড়ান্ত কথাবার্তা সারতে লখনৌয়ে মেয়ের হবু শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন অনামিকার বাবা-মা ও কাকা। আগামী সপ্তাহে নীলেশের বাড়ির লোকের কলকাতায় আসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই আগুনে পুড়ে গেল সব। বুধবার মেয়ের কফিনবন্দি নিথর দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন তাঁরা।
অনামিকার কাকা বিদ্যুৎ সামন্ত বললেন, ‘গ্রামের বাড়িতে মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান হবে বলে পরিকল্পনা চলছিল। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।’ তাঁদের পরিবারের অভিযোগ, ওই আবাসনটি কার্যত জতুগৃহ। তাই আগুন লাগার পর ভেতর থেকে অনামিকা ও তাঁর হবু স্বামী নীলেশকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ভেতরেই আটকে পড়ে কার্যত ঝলসেই মৃত্যু হয় দুজনের। উত্তরপ্রদেশ সরকার মৃত্যুর পরেও তাদের দেহ বাড়ি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে খুব একটা সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ। তাঁরা মূলত নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে অনামিকার দেহ ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।
-
-
-
-
-
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Related Articles

দেশ
ক্ষমা চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষা দুর্নীতি থেকে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি হামলা- কেন্দ্রকে তুলোধনা রাহুলের
9h ago

দেশ
চাপের মুখে নিট প্রশ্ন ফাঁস-কাণ্ডে সংসদে আলোচনায় রাজি কেন্দ্র!
11h ago

দেশ
সিজেপির সংসদ অভিযানে পুলিশের হামলা! দ্রুত শুনতেও চাইল না সুপ্রিম কোর্ট
11h ago

দেশ
শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে কালো পোশাক পরে সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভ সাংসদদের
14h ago

দেশ
দেখে নিন আজকের সোনা রুপোর দর এক নজরে
14h ago

শিরোনাম
আজ কোথায় কত দাম পেট্রোল-ডিজেলের? দেখে নিন এক নজরে
14h ago
More from দেশ
View All →
অসমে গুরুতর বন্যা পরিস্থিতি, জলের তোড়ে ভেসে গেল একই পরিবারের ৫ সদস্য!
16h ago

সিকিমের সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ে বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা, বুধের সকালেও চলছে উদ্ধারকাজ
18h ago

কথা বলতে হলে সরকারকে আসতে হবে যন্তর মন্তরে: CJP
19h ago

ককরোচদের উপর লাঠিচার্জের প্রতিবাদ করে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-অখিলেশ! মোদির বাসভবনের সামনে উত্তেজনা
1d ago

‘নেতা-মন্ত্রীরা নিজেদের ভগবান মনে করছেন? ছাত্র-বিক্ষোভে লাঠিচার্জে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন অরিজিৎ
1d ago
