আরও একবার সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের কলঙ্কজনক অধ্যায় তৈরি হল দেশে। এবার ঘটনাস্থল বিজেপি শাসিত রাজস্থান। জয়পুরে রাজস্থান মেডিক্যাল পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট কোর্সেসের প্রবেশিকা পরীক্ষা চলাকালীনই প্রশ্নপত্র বাইরে চলে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই নজিরবিহীন কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে রাজস্থানের একাধিক পরীক্ষা কেন্দ্রে চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের একাংশ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যাপক ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ। এই ঘটনার জেরে হাজার হাজার যোগ্য চিকিৎসকের ভবিষ্যৎ এক ধাক্কায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেল। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরীক্ষার্থীদের একাংশ বুঝতে পারেন যে প্রশ্নপত্র আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছে। ঘাম ঝরানো প্রস্তুতি এবং বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিশ্রমের পর পরীক্ষা এভাবে প্রহসনে পরিণত হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন কেন্দ্রের ভেতরে থাকা পরীক্ষার্থীরা। জয়পুরের একাধিক কেন্দ্রে চিকিৎসকেরা খাতা জমা দিতে স্পষ্ট অস্বীকার করেন। এরপর তাঁরা খাতা ফেলে কেন্দ্রের বাইরে এসে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভে শামিল হন। পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরেই প্রশাসনের গাফিলতি ও অপদার্থতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা। 

কঠোর নিরাপত্তা বলয় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট স্তরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বাইরে চলে গেল, তা নিয়ে ইতিমিধ্যেই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসন এবং পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার মধ্যে ন্যূনতম কোনো সমন্বয় ছিল না। নিরাপত্তার এই জঘন্য বেআব্রু দশা নিয়ে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে, এখনও পর্যন্ত তাঁদের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি। 

এই ঘটনার পর রাজস্থানের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও। তাদের দাবি, ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুশাসনের ঢাক ঢোল পিটিয়েও যুবসমাজ ও যোগ্য প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারছে না প্রশাসন। তবে শুধু রাজনৈতিক চাপানউতোর নয়, এই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেলেন রাজ্যের চিকিৎসকেরা, যাঁরা নিজেদের কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ পার করার অপেক্ষায় ছিলেন। গোটা ঘটনায় জয়পুর জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।