ঝাড়খণ্ডে পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবদের CBI তদন্তের দাবি মানল না হেমন্ত সোরেন সরকার। JPSC পরীক্ষা বাতিলের দাবিও খারিজ করে দিয়েছে সরকার। তবে অনিয়মের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত চালাবে রাজ্য CID এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ইডি-কে দিয়ে তদন্ত করানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের কথাও জানিয়েছে সরকার।

আরও পড়ুন: সদর্থক ভূমিকা নিক রাজ্য সরকার: দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে বিচার চেয়ে ফের রাস্তায় অভয়া মঞ্চ

শুক্রবার রাত থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে সরকার। ছাত্র আন্দোলন মূলত দু’টি গোষ্ঠীতে বিভক্ত। ‘জেপিএসসি জেএসএসসি ক্যান্ডিডেটস ফোরাম’-এর দাবি, JPSC পরীক্ষা বাতিল করে গোটা ঘটনার সিবিআই তদন্ত করতে হবে। অন্য দিকে ‘জেপিএসসি জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ’-এর দাবি ছিল দ্রুত বিচার ও পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার। রাঁচিতে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সঙ্গে বৈঠকের পর কারিগরি ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সুদিব্য কুমার জানান, ৯০ দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য IIT-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠনেরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তবে পরীক্ষা বাতিলের দাবি মানতে নারাজ সরকার। মন্ত্রীর বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ মেনেই পরীক্ষা হয়েছে এবং বিষয়টি আদালতের নজরদারিতে রয়েছে। তাই সরকার একতরফাভাবে পরীক্ষা বাতিল করতে পারে না। সরকারের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয় আন্দোলনকারীরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, CBI তদন্তের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সোমবার বিধানসভা অভিযানের ডাকও দেওয়া হয়েছে। এদিকে, অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের মধ্যেই JPSC-এর তিন আধিকারিক—অজিতা ভট্টাচার্য, জামাল আহমেদ ও অনিমা হাঁসদা—সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁদের ইস্তফা গ্রহণ করেছেন ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষকুমার গঙ্গোয়ার।