Site Logo

আকাশছোঁয়া বৈদেশিক ঋণ, পাক-শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের মতো দেউলিয়া হওয়ার পথে ভারতও!

EBBS Desk··1 min read
আকাশছোঁয়া বৈদেশিক ঋণ, পাক-শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের মতো দেউলিয়া হওয়ার পথে ভারতও!

এবার কি পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার মতো দশা হবে ভারতেরও? রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া দেশের বৈদেশিক ঋণের খতিয়ান প্রকাশের পর থেকেই জোরালোভাবে উঠে পড়েছে প্রশ্নটা। তবে কি বৈদেশিক ঋণের দায়ে দেউলিয়া হতে বসেছে তথাকথিত ‘বিশ্বগুরু’র ভারতবর্ষ! অদূর ভবিষ্যতে দেশের বুকে নেমে আসতে পারে অবধারিত সংকট। আসতে পারে খারাপ সেদিন! 

Sponsored

Sranchi In Article

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ভারতের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ এখন পর্যন্ত ৭৬,২৮০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় এই অঙ্কটা প্রায় ৭২,৬৫,৬৭,০০,০০,০০,০০০ টাকা। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে জ্বালানি সংকট তীব্রতর। বিশ্ববাজারে ইতিমধ্যেই তার প্রভাব পড়েছে। হু-হু করে বাড়ছে ডলারের দাম। সেইসঙ্গে ভারতের বৈদেশিক ঋণও উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে। যার ফলে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা। বিশেষজ্ঞদের একাংশ আশঙ্কিত। তৈরি হবে না তো মহাসংকট মুহূর্ত! রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বলছে গত এক বছরে বৈদেশিক ঋণ ৩.৫%-এর বেশি বেড়েছে। প্রায় ২৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। যার বেশিরভাগটাই আবার বেসরকারি কর্পোরেট সংস্থার হাতে। তার উপর ডলারের দাম যে-হারে বাড়ছে ভারতীয় মুদ্রায় ঋণের বহর চওড়া হচ্ছে। অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে বাধ্য। পাশাপাশি বেড়েছে স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ। মোট বৈদেশিক ঋণের ১৮.৩ শতাংশ ছিল স্বল্পমেয়াদি। তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯.৬ শতাংশ। এই ঋণ স্বল্প মেয়াদে শোধ করতে না পারলে নানাবিধ অর্থনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দা শুরু হলে তার মাশুল দিতে হবে। দেশের রফতানি শিল্প পড়বে মহাসংকটে। সবথেকে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে সংযুক্ত আরব আমির শাহি ও সৌদি আরবে ভারতের রফতানি। এমনিতেই আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৮.৩ শতাংশ রফতানি হ্রাস পেয়েছে। যার মধ্যে কাটা ও পালিশ-করা হিরের রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এ-ছাড়া বস্ত্রশিল্প, চর্মজাত পণ্যের রফতানিও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। চিন, নেপাল, জাপান, হংকং ও সিঙ্গাপুরের মতো নানা দেশও ফিরিয়ে দিচ্ছে ভারতে উৎপাদিত খাদ্যপণ্য। সিঙ্গাপুরে ভারতীয় মশলার গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। চিন ফিরিয়ে দিয়েছে ভারতের লাল লঙ্কা। প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার রফতানি শিল্প ধাক্কা খেয়েছে বিদেশে। ভারতের আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে একদম শীর্ষে রয়েছে অপরিশোধিত তেল। বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সংকটের আবহে ভারতকে তেল কিনতে অনেক বেশি দাম দিতে হয়েছে। ফলে বাণিজ্যিক ঘাটতি বাড়ছে। এভাবে রফতানি ও আমদানিতে জোড়া আঘাত নেমে এলে ঋণের বোঝা ভারী হয়ে উঠবে। 

অপরিশোধিত তেলের দাম যদি টানা বাড়তে থাকে তাহলে বৈদেশিক মুদ্রার ভাঁড়ারে বড়সড় টান পড়বে। এইরূপ নানাবিধ কারণে ভারতও দেউলিয়া হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় দেখা গিয়েছিল ঠিক একই ছবি। ২০২২ সালে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছায়। দেশ জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০২২-’২৩ সালে পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে দেশ জুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সাধারণ পণ্য অগ্নিমূল্য হয়ে উঠেছিল। বাংলাদেশের পরিস্থিতিও ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল বিগত বছরগুলিতে। এবার সেই একইরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন  ভারতও। আগামী দিন কিন্তু ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from দেশ

View All →