প্রায় দুমাস ধরে আলোচনা এবং একাধিক বৈঠকের পর অবশেষে সোশ্যাল মিডিয়ার আপত্তিকর কন্টেন্ট আপলোড নিয়ে এবার কড়া নজরদারি রাখতে চলেছে মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা। মেটা (META) জানিয়েছে শিশু নিগ্রহের কনটেন্ট সরাসরি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হবে, যাতে সমাজমাধ্যম শিশু ও নাবালকদের কাছে নিরাপদ থাকতে পারে। 

আরও পড়ুন: বিপুল বিনিয়োগের মধ্যেই ফের কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে ওরাকল!

যতদিন যাচ্ছে ততই সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের আসক্তি বাড়ছে। অনেকের কাছে এই মাধ্যম ব্যবহার করে জীবিকা অর্জন করার একটা নতুন দিক প্রান্ত খুলে গেছে। কিন্তু যত ব্যবহার বাড়ছে তার দ্বিগুণ বাড়ছে অপব্যবহার। ডিপ ফেক থেকে শুরু করে বিকৃত তথ্য, অশালীন ছবির আধিক্য নজরে আসা মাত্রই মেটার (META) চাপ বাড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে লাগাম টানা নির্দেশ দেয় ভারত সরকার (Govt of India)। প্রয়োজনে অ্যালগরিদমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কথাও বলা হয়। শিশুদের নিয়ে তৈরি আপত্তিকর কন্টেন্ট আটকাতে প্রযুক্তি সংস্থা কী পদক্ষেপ করবে, তার বিস্তারিত রোড ম্যাপ জমা দিতে বলা হয় কেন্দ্রকে। প্রথমদিকে জানা যায় জুকারবার্গের সংস্থা এই নিয়ে খুব একটা আপোষের পথে হাঁটতে রাজি নয়। তবে শেষমেষ দেখা গেল দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে কেন্দ্রের কাছে নতি স্বীকার করল মেটা। 

সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার বিখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে কেন্দ্রের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল এবার তা খানিকটা কমলো বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার সূত্রপাত, জেন-জি আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা ডিলিট হওয়াকে কেন্দ্র করে। প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যখন নরেন্দ্র মোদি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে দেয় মেটা। এর ফলে বেজায় চটে যায় কেন্দ্র। জুকারবার্গের সংস্থার তরফ থেকে ক্ষমা চেয়ে বলা হয় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু দেশের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক বিষয়টি ভালো চোখে দেখেনি। নয়া দিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দেয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলিতে কড়া নজরদারি বাড়াতে হবে। সরকারি সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী কেন্দ্রের এই দাবি মেনে নিয়েছে মেটা (META)। আগামী দিনের অন্যান্য সমাজ মাধ্যমগুলি প্ল্যাটফর্মেও একইভাবে ক্ষতিকারক কন্টেন্ট আটকানোর জন্য পদক্ষেপ করার পথে হাঁটতে চাইছে তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক।