গুরুগ্রামের (Gurgaon) রাস্তায় গাড়ির ধাক্কায় বাইক থেকে ছিটকে পড়ার সেই মুহূর্ত এখনও ভুলতে পারেননি সিয়া (Siya)। তবে ভয় বা আতঙ্কে পিছিয়ে যাওয়ার বদলে এবার আরও জোরালো ভাবে লড়াইয়ের বার্তা দিলেন তিনি। সিয়ার স্পষ্ট বক্তব্য, এই ঘটনার বিচার শুধু নিজের জন্য নয়, আগামী দিনে যাতে কোনও মহিলা বাইকারকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, তার জন্যও লড়বেন তিনি।

আরও পড়ুন: ট্রফি নেবেন না হরমনপ্রীতরা, জেনেও ভারতের বিকল্পও প্রস্তাবও খারিজ করেন নাকভি

সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে সিয়া দাবি করেছেন, ঘটনাটি নিছক কোনও পথদুর্ঘটনা নয়। তাঁকে ইচ্ছাকৃত ভাবেই গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, রাস্তায় কোনও মহিলাকে ধাক্কা মেরে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে গেলেই যে আইনের নাগাল এড়ানো যাবে, এমন ধারণা যেন কারও তৈরি না হয়।

সিয়ার প্রশ্ন আরও বড় জায়গায়। দিল্লি (Delhi) বা গুরুগ্রামের মতো ব্যস্ত শহরে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলা বাইকাররা, যদি রাস্তায় নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্তই হতে না পারেন, তা হলে প্রশাসনের ভূমিকা কোথায়? প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না করলে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আটকানো কঠিন। তাই আপাতত থামার কোনও ইচ্ছা নেই তাঁর। সিয়া জানিয়েছেন, এই লড়াই তিনি শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে চান। তাঁর কথায়, ‘‘এত সহজে হার মানব না। একটা দৃষ্টান্ত তৈরি করেই ছাড়ব।’’

আরও পড়ুন: কোন শহরে কত দাম পেট্রোল ডিজেলের

অভিযুক্ত কল্যাণ বইঁসলাকেও (Kalyan Bainsla) সরাসরি বার্তা দিয়েছেন সিয়া। তাঁর দাবি, মহিলা বাইকারদের পাশে এখন গোটা বাইকার কমিউনিটি রয়েছে। ফলে কাউকে হেনস্থা করে বা ভয় দেখিয়ে সহজে পার পাওয়ার সুযোগ আর নেই। ভবিষ্যতে কোনও মহিলা বাইকারের সঙ্গে এমন আচরণ করার আগে অন্তত দু’বার ভাবতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ঘটনার দিন কী হয়েছিল, তার বর্ণনা দিতে গিয়ে সিয়া জানান, গুরুগ্রামের রাস্তায় চলার সময় আচমকাই একটি গাড়ি তাঁর বাইকে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের জেরে রাস্তায় ছিটকে পড়েন তিনি। বাইকের সামনে লাগানো ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি রেকর্ড হয়ে যায়। সৌভাগ্যক্রমে, শরীরে সুরক্ষাবর্ম থাকায় বড় ধরনের আঘাত থেকে বেঁচে যান তিনি।

ঘটনার পরই গুরুগ্রাম পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা শুরু করে। প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় গাড়িচালকের বিরুদ্ধে বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো এবং জখম করার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। তদন্ত এগোতে থাকায় পুলিশ চালক কল্যাণ বইঁসলাকে শনাক্ত করে। সিসিটিভি ফুটেজ-সহ বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখে মঙ্গলবার কল্যাণের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার ধারাও যোগ করা হয়। শেষ পর্যন্ত রাজস্থানের দৌসা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে গুরুগ্রাম পুলিশ। তবে পুলিশের পদক্ষেপেই আপাতত সন্তুষ্ট নন সিয়া। তাঁর লড়াই এখন শুধু অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নয়, রাস্তায় মহিলা বাইকারদের নিরাপত্তা নিয়েও।