বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নাকি আপোসহীন কেন্দ্রীয় সরকার! তা সত্ত্বেও এবার প্রশ্নের মুখে সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা। দেশের মাটি ছাড়ার আগে বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন (Immigration) প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই তিন বিদেশি নাগরিক কী ভাবে আন্তর্জাতিক উড়ানে উঠে পড়লেন, তা নিয়েই এ বার অস্বস্তিতে কেন্দ্র। দিল্লির (Delhi) মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে (Airport) নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার এমন ফাঁক কী করে তৈরি হল! নজরদারির দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) সিইও-কে তলব করেছে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক। বিমান সংস্থার কাছে চাওয়া হয়েছে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও।

আরও পড়ুন: সহজে হার মানব না: গুরুগ্রামে অভিযুক্তকে বাইকার সিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

চলতি মাসের ৪ তারিখের ঘটনা এটি। তিন ইতালীয় (Italian) নাগরিক অমৃতসর থেকে বিমানে দিল্লি আসেন। সেখানে পৌঁছনোর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই দিল্লি বিমানবন্দর থেকে লুফথানসার একটি কোডশেয়ার উড়ানে মিউনিখের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। অভিযোগ, দিল্লি থেকে আন্তর্জাতিক উড়ানে ওঠার আগে যে বাধ্যতামূলক ডিপার্চার ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা, তা না করেই তাঁরা দেশ ছাড়েন।

অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের বক্তব্য, এয়ার ইন্ডিয়ার ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ অপারেশনের আওতাতেই ঘটনার সূত্রপাত। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাওয়া যাত্রীরা তাঁদের যাত্রার শুরুতেই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পরবর্তী পর্যায়ে নির্ধারিত ‘হাব’ বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর আন্তর্জাতিক উড়ানে ওঠার আগে তাঁদের ফের ইমিগ্রেশন করার প্রয়োজন থাকে না; নিরাপত্তা পরীক্ষার পরই বোর্ডিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থায় অমৃতসর ‘স্পোক’ এবং দিল্লি ‘হাব’ হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: কোন শহরে কত দাম পেট্রোল ডিজেলের

তবে এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার কোথায় বিচ্যুতি ঘটল, সেটিই এখন কেন্দ্রের মূল প্রশ্ন। মন্ত্রকের দাবি, ঘটনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) লঙ্ঘিত হয়েছে। সূত্রের খবর, অমৃতসর বিমানবন্দর থেকেই ওই তিন যাত্রীর হাতে দিল্লি এবং মিউনিখ, দুই গন্তব্যেরই বোর্ডিং পাস তুলে দেওয়া হয়েছিল। ফলে দিল্লিতে আন্তর্জাতিক উড়ানে ওঠার সময় ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি যাচাই কেন হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটিকে ইতিমধ্যেই ‘গুরুতর নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত গাফিলতি’ বলে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্র। এর আগে এই ঘটনার জেরে এয়ার ইন্ডিয়াকে শো-কজ় নোটিশ পাঠিয়েছিল অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক। এ বার সরাসরি সংস্থার সিইও-কে তলব করে ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের নেতৃত্বে ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের সচিব ও অতিরিক্ত সচিব, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিরেক্টর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব (ইউটি ও ফরেনার্স), ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশনের কমিশনার এবং দিল্লি বিমানবন্দরের সিইও-র।

তবে প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই। দেশের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাই যেখানে নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, সেখানে সেই স্তর এড়িয়ে তিন বিদেশি কী ভাবে আন্তর্জাতিক উড়ানে উঠে দেশ ছাড়লেন!