এবার অতি দরিদ্র পরিবারের রেশনের চাল-গমের উপর কোপ মোদি সরকারের। জনবিরোধী, গরিব বিরোধী বিল আনছে এনডিএ সরকার। অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনাতেও শস্যের বরাদ্দ কমাতে মরিয়া কেন্দ্রের সরকার। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের আনা খাদ্য সুরক্ষা আইনের ভিত্তিতে গণবণ্টন ব্যবস্থায় রেশন দোকানের মাধ্যমে দুই শ্রেণির নাগরিক বিনামূল্যের খাদ্যশস্য পেয়ে থাকেন। প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড (পিএইচএইচ) এবং অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (এএওয়াই)। প্রথম ক্ষেত্রে চাল-গম মেলে ‘ব্যক্তি’ পিছু। মাসে পাঁচ কেজি। অন্ত্যোদয়ে ‘পরিবার’ পিছু মাসে ৩৫ কেজি। তা সে পরিবারে যত সদস্যই থাকুন না কেন। আইন সংশোধন করে এবার এই পরিবার পিছু ৩৫ কেজি চাল-গম দেওয়ার ব্যবস্থাটাই বন্ধ করতে চলেছে মোদি সরকার।
অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা কী?
অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY) হলো ভারত সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্প, যা ২০০০ সালের ২৫ ডিসেম্বর চালু হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য, দেশের সবচেয়ে দরিদ্রতম মানুষদের পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য প্রদান করা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ৩৫ কেজি খাদ্যশস্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়ে থাকে। এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের একটি নির্দিষ্ট হলুদ রঙের রেশন কার্ড দেওয়া হয়।
প্রায়োরিটি হাউসহোল্ডের (পিএইচএইচ) ক্ষেত্রে চাল-গম পাওয়া যায় ‘ব্যক্তি’ পিছু। মাসে পাঁচ কেজি।
অন্ত্যোদয়ে ‘পরিবার’ পিছু মাসে ৩৫ কেজি। তা সে পরিবারে যত সদস্যই থাকুন না কেন। আইন সংশোধন করে এবার এই পরিবার পিছু ৩৫ কেজি চাল-গম দেওয়ার ব্যবস্থাটাই বন্ধ করতে চলেছে মোদি সরকার। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মাসে দেওয়া হবে মাত্র ৭ কেজি। ব্যক্তি পিছু। অর্থাৎ, কোনো পরিবারে যদি চারজন সদস্য থাকেন, তাদের প্রাপ্ত চাল-গমের পরিমাণ একধাক্কায় ৭ কেজি কমে যাবে। আর তিনজন থাকলে রেশন কমবে ১৪ কেজি। আবার এমন নয় যে, কোনো পরিবারে যদি সাতজন সদস্য থাকেন, তাহলে তারা ৪৯ কেজি চাল-গম পাবেন! তাঁদের ক্ষেত্রে সীমা বেঁধে দেওয়া হবে সেই ৩৫ কেজিতেই। অর্থাৎ তখন ব্যক্তি পিছু হিসাবে বরাদ্দ বাড়াবে না সরকার। সেই মতোই আনা হচ্ছে ‘জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা (সংশোধনী) বিল ২০২৬’। মোদি সরকারের যুক্তি হল, পিএইচএইচে যদি একজনের জন্য পাঁচ কেজি বরাদ্দ হয়, তাহলে অন্ত্যোদয়ে নয় কেন? কিন্তু এখানে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা করা হয়েছিল দেশের দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম মানুষের জন্য, তারা যাতে দুবেলা দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে, সেখানে কেন কোপ মারছে মোদি সরকার?
কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি, অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনায় পরিবারে গড়ে সাতজন সদস্য—এমনটা ধরে নিয়েই মাসে ৫ কেজি হিসাবে রেশন দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকৃত এএওয়াই পরিবার কত রয়েছে? সমীক্ষা চালিয়েছিল কেন্দ্র। দেখা গিয়েছে, গোটা দেশে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা ২ কোটি ২৮ লক্ষ ৫৭ হাজার ৮১৪। কিন্তু এর মধ্যে ‘সাতজন’ রয়েছে এমন পরিবারের সংখ্যা ৬ লক্ষ ২১ হাজার ১৪৯। ফলে সরকারের ভাঁড়ার থেকে প্রত্যেক মাসে বেরিয়ে যাচ্ছে অতিরিক্ত ২ লক্ষ ৮৩ হাজার ১২৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য। তাই ব্যক্তি পিছু ব্যবস্থা হলে অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা থেকেই বছরে সরকারের সাশ্রয় হবে ১৩ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। সেই কারণে গত ১০ মাস ধরে গোপন নোট চালাচালি থেকে সংসদে সংশোধনী বিল এনে অতি গরিবের বরাদ্দ কাটছাঁট করতে চলেছে কেন্দ্র।
ডিপার্টমেন্ট অব ফুড অ্যান্ড পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশনের তরফে ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৩-তে সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রকও ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে সাধারণ মানুষকে এই সংশোধনী সম্পর্কে নিজেদের মতামত জানাতে বলা হয়েছে। এখানে যদি সাধারণ মানুষ এই আইনের সংশোধনের বিরোধিতাও করে তাহলেও একরকম গায়ের জোরেই সংসদে এই বিল পাশ হয়ে যাবে।
















