বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় বিজেপিকে একহাত নিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মঙ্গলবার দিল্লিতে সাংসদ কীর্তি আজাদের সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন, নির্যাতিতার পরিবার এবং প্রতিবেশীরা অভিযুক্তদের ধরে ফেললেও শান্তনু মণ্ডল নামে এক বিজেপি নেতা তাদের পালাতে সাহায্য করেছেন। পাশাপাশি, পুলিশ সময় মতো পদক্ষেপ করেনি বলেও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনায় এই মুহূর্তে উত্তাল গোটা রাজ্য। ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের পরে খুন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ধর্ষণের পরে নির্যাতিতাকে বস্তায় পুরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় এবং তখনও বেঁচে ছিল সেই নাবালিকা। এই প্রসঙ্গ টেনে মহুয়া বলেন, এমন নৃশংস ঘটনা ভাবা যায় না। কিন্তু তার পরেও রাজ্য সরকারের কোনও তাপ-উত্তাপ নেই। পরের দিন সকাল সাড়ে দশটার আগে এলাকায় যাওয়ার সময় পাননি এসপি।

এ দিন নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। সেই সফর নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তা দিয়ে ওদের নির্যাতিতার বাড়িতে নিয়ে গিয়েছে। আর সাত বারের সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাউস অ্যারেস্ট করে রেখেছে। বিজেপির ‘ভয় আউট ভরসা ইন’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে মহুয়ার প্রশ্ন, আমাদের এত ভয় কেন?

বারুইপুর-কাণ্ডের পাশাপাশি এ দিন রামমন্দিরের অনুদান তছরূপ এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নেন মহুয়া মৈত্র। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, বিজেপি হিন্দুদের বিশ্বাস নিয়ে খেলা করছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আট জনকে গ্রেফতার করেছে সিট। ইতিমধ্যেই রামজন্মভূমি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন চম্পত রাই এবং পদত্যাগ করেছেন ট্রাস্টি অনিল মিশ্রও। কিন্তু মহুয়ার প্রশ্ন, এখনও পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর হলো না কেন?

অন্য দিকে, নিট প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্রীয় সরকার নজিরবিহীন ভাবে ভারতীয় সেনার সাহায্য নিয়েছিল এবং বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে প্রশ্নপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকে ‘অপদার্থ সরকার’ আখ্যা দিয়ে মহুয়া বলেন, একটা পরীক্ষা করাতে বায়ুসেনার সাহায্য নিতে হচ্ছে, এটা লজ্জার। একই সঙ্গে এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।