আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বিপুল সম্পত্তির মালিক! তেলেঙ্গানায় এক পদস্থ পুলিশকর্তার ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে চক্ষু চড়কগাছ দুর্নীতিদমন শাখার আধিকারিকদের। অভিযোগ ডেপুটি পুলিশ সুপার (ডিএসপি) সঙ্কিরেড্ডি ভীম রেড্ডির বিরুদ্ধে। তাঁর একাধিক ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে আপাতত প্রায় ৩০০ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিস পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার জেরে সোমবার সন্ধ্যায় ইব্রাহিমবাগের বাড়ি থেকে ওই পুলিশকর্তাকে গ্রেফতার করেছে এসিবি। তদন্তকারীদের অনুমান, তল্লাশি ও হিসাবনিকাশ সম্পূর্ণ হলে এই সম্পত্তির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এসিবি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২ জুলাই থেকে এই ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান শুরু হয়, যা চলে ৬ জুলাই পর্যন্ত। তেলেঙ্গানা এবং প্রতিবেশী রাজ্য কর্নাটকে ছড়িয়ে থাকা ডিএসপি-র অন্তত ১৫টি ঠিকানায় একযোগে হানা দেন আধিকারিকেরা। বাদ যায়নি তাঁর আত্মীয় ও বন্ধুদের বাড়িও। তল্লাশিতে একটি ঠিকানা থেকে নগদ ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা এবং অন্য একটি ডেরা থেকে নগদ ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধার হয়েছে ২ কেজি সোনার গয়না এবং ২০ কেজি রুপোর সামগ্রী। ওই পুলিশকর্তার একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই ২০ লক্ষ টাকার হদিস মিলেছে। এছাড়াও হায়দরাবাদের ইব্রাহিমবাগে একটি বিলাসবহুল বাংলো, টেলিকমনগরে একটি তিনতলা বাড়ি ও একটি পেন্ট হাউস ছাড়াও ওই এলাকায় আরও একটি ফ্ল্যাটের সন্ধান মিলেছে। এখানেই শেষ নয়, অভিজাত গাছিবোওলিতে একটি ফ্ল্যাট, মণিকোন্ডায় ৫০০ ও ৩০০০ বর্গফুটের দুটি বাণিজ্যিক ভবন, তেল্লাপুরে দুটি ফ্ল্যাট ও একটি রিসর্ট এবং সঙ্গারেড্ডি জেলায় সাড়ে তিন একর কৃষিজমি রয়েছে ওই পুলিশকর্তার।

তেলেঙ্গানার পাশাপাশি কর্নাটকেও থাবা বসিয়েছেন ওই ডিএসপি। কর্নাটকে তাঁর নামে ও বেনামে বিপুল পরিমাণ জমির হদিস মিলেছে, যার মধ্যে একটি ৬০০ একর এবং অপরটি ৩৮ একরের বিশাল কৃষিজমি। বেঙ্গালুরুতে রয়েছে এক একরের একটি জমি। এ ছাড়া নাগোলে ২০০ বর্গফুট, পাতানচেরুতে ৪০০ ও ২০০ বর্গফুট, ভিকারাবাদে এক হাজার বর্গফুটের প্লট এবং ২ একরের কৃষিজমি মিলেছে। কর্নাটকের আরও বেশ কিছু এলাকায় বেনামে সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। বিপুল এই সম্পত্তির উৎস কী, তা জানতেই এখন ধৃত পুলিশকর্তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে এসিবি।