ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ‘বন্দে মাতরম’ না গাইলে কোনও নাগরিককে ফৌজদারি শাস্তি দেওয়া যাবে কি না, সেই প্রশ্নেই আপাতত নজর সুপ্রিম কোর্টের। সরকারি অনুষ্ঠানে গানটির ছয়টি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করার কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় মঙ্গলবার এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (Chief Justice Surya Kant) নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, ‘বিজোয় ইমানুয়েল’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) যে আইনি নীতি নির্ধারণ করেছিল, বর্তমান ক্ষেত্রেও তা প্রাসঙ্গিক কি না, সেটাই খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের কাছে জবাব চেয়ে দু’সপ্তাহ সময় দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন: জার্মানিতে দাপট হিটলারপন্থী দলের! বার্লিনে কট্টর বামেদের জয়! অন্যপ্রান্তে জয়ী ডানপন্থীরা
কর্নাটকের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী টিএম কৃষ্ণের দায়ের করা রিটে মূল আপত্তি ছয়টি স্তবক বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে। তাঁর দাবি, শেষ চারটি স্তবকে দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর উল্লেখ রয়েছে। ফলে ওই অংশ নাগরিকদের গাইতে বাধ্য করা হলে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন উঠতে পারে। এই কারণেই কেন্দ্রের পদক্ষেপকে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে। মামলাকারীর আরও বক্তব্য, ১৯৭১ সালের ‘প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট’-এর ২০২৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’কে অপরাধমূলক আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অনিচ্ছুক স্কুলগুলিকে 'নমো গাথা'য় জোর? রাজ্যের শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকা ঘিরে জোর জল্পনা
মামলাকারীর হয়ে প্রবীণ আইনজীবী ড. এস মুরলীধর শুনানিতে সংশোধিত আইনের একটি অস্পষ্টতার দিকও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, ‘জাতীয় সঙ্গীত’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে, সংশোধনীতে তার নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। এই অস্পষ্টতা ভবিষ্যতে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও তিনি জানান। তাঁর আরও দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এ সংক্রান্ত অফিস মেমোরেন্ডাম গ্যাজেটে প্রকাশ করা হয়নি। মুরলীধর বলেন, এতদিন ‘বন্দে মাতরম’ বলতে প্রচলিত ভাবে প্রথম দু’টি স্তবককেই বোঝানো হয়েছে। কোনও জাতীয় ঐকমত্য ছাড়াই সেই অবস্থান বদলে দেওয়া হয়েছে বলেও তাঁর অভিযোগ।
শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী আমেরিকার প্রসঙ্গ টেনে জাতীয় সঙ্গীতে “In God we Trust” বাক্য ব্যবহারের কথা বলেন। এরপর সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষতা এত সংকীর্ণ হতে পারে না।” পরে তাঁর “নকশালদের চিন্তাভাবনা অনুযায়ী আইন প্রণয়ন হতে পারে না” মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন মুরলীধর। তবে ধর্মীয় কারণে গান না গাওয়ার জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় কি না, সেই প্রশ্নটিই মামলার পরবর্তী শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।
















