'নমো গাথা'য় আগ্রহ নেই রাজ্যের স্কুলগুলির! অনন্ত সোমবার শিক্ষা দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি ঘিরে এই জল্পনা সবমহলে। স্কুল শিক্ষা দফতরের (School Education Department) যুগ্ম অধিকর্তার জারি করা নির্দেশিকায় (মেমো নম্বর ১৩৫৯-Sc/Apt, তারিখ ২১/০৯/২০২৬) স্পষ্ট জানানো হয়েছে, উচ্চ প্রাথমিক (Upper Primary), মাধ্যমিক (Secondary) ও উচ্চ মাধ্যমিক (High Secondary) স্কুলগুলিতে 'সেবা সংকল্প অভিযান'-এর আওতায় '২৫ কোটি বচ্চো কে সপনো কা ভারত' এবং 'নমো সেবা- আনকহি কাহানিয়াঁ' শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করতে হবে। কিন্তু জেলা পরিদর্শকদের (DI) তরফ থেকে সমস্ত স্কুলকে জানানো সত্ত্বেও কিছু স্কুল কর্তৃপক্ষ এখনও এই কর্মসূচি সম্পর্কে 'অবহিত নয়'।

উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলিতে (School) 'সেবা সংকল্প অভিযান'-এর আওতায় '২৫ কোটি বচ্চো কে সপনো কা ভারত' এবং 'নমো সেবা- আনকহি কাহানিয়াঁ' শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করার নির্দেশ আগেই দিয়েছিল স্কুল শিক্ষা দফতর। কিন্তু বাস্তব হল, এই মোদি-বন্দনায় বাংলার স্কুলগুলি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনও আগ্রহই দেখায়নি। শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরা ভার্চুয়াল বৈঠক, ইমেল বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্দেশিকায় কার্যত সে কথা স্বীকার করে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে জেলা পরিদর্শকদের তরপ থেকে সমস্ত স্কুলকে জানানো সত্ত্বেও কিছু স্কুল কর্তৃপক্ষ এখনও এই কর্মসূচি সম্পর্কে 'অবহিত নয়'। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সরকারি নথির এই 'অবহিত নয়' কথাটি আসলে স্কুলগুলির নীরব প্রত্যাখ্যানকে ধামাচাপা দেওয়ার এক মরিয়া বাহানা মাত্র।

 

এবার কিছুটা জোর করেই এই কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর এই কর্মসূচির অধীনে বক্তৃতা ও অঙ্কন প্রতিযোগিতায় সমস্ত স্কুলের সর্বাধিক ছাত্রছাত্রীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জেলা স্কুল পরিদর্শকদের 'ব্যক্তিগত দায়িত্ব'। অভিযোগ, 'নমো সেবা- আনকহি কাহানিয়াঁ'-র অধীনে স্কুলগুলিতে জোর করে সংগীত ও নাট্যাভিনয় পরিবেশন করাতেও বাধ্য করা হচ্ছে।

নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে- প্রয়োজনে স্কুল শিক্ষা দফতরের অধীনে থাকা সমস্ত জনবল এই কাজে লাগিয়ে দিতে হবে। এমনকী কাজের তদারকি করতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়া লিঙ্কের মাধ্যমে গুগল শিটে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য স্তর থেকে রাত ৯টায় একটি বিশেষ ভার্চুয়াল বৈঠকও ডাকা হয়েছে।

 

বিরোধীদের মতে, রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশা, পরিকাঠামোহীন স্কুল, পড়ুয়ার অভাবে স্কুল বন্ধ, শিক্ষকদের বঞ্চনা নিয়ে শিক্ষা দফতরের কোনও হেলদোল নেই, অথচ এখন সমস্ত লোকবল কাজে লাগিয়ে ২৫ কোটি ছাত্র-ছাত্রীর কাঁধে ভর করে নমো বন্দনা করা হচ্ছে।