সোমবার থেকে সংসদে শুরু হচ্ছে বাদল অধিবেশন, তার আগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল সর্বদলীয় বৈঠক।  সরকারের পক্ষ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী গোষ্ঠীকেও এদিন আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এই শিবির ঘোষণা করেছিল যে তাদের সাংসদরা ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই) নামক এক স্বল্প-পরিচিত দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। সোমবার থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রাক্কালে সরকার এই সর্বদলীয় বৈঠকটি ডেকেছিল যেখানে এই আমন্ত্রনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ওয়াকআউট করে সব বিরোধী দল। কারণ এনসিপিআইকে স্বীকৃতি দেননি স্পিকার, তাহলে কীভাবে তারা বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হল সেই বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে  প্রথমে প্রতীকী ওয়াকআউট করা হয়, পরে অবশ্য বৈঠকে যোগ দেন মহুয়া-ডেরেকরা। 

এই মর্মে জয়রাম রমেশের একটি পোস্ট শেয়ার করে ডেরেক ও' ব্রায়ান নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ''বাজিমাত! ঐক্যবদ্ধ বিরোধী জোট। সর্বদলীয় বৈঠক থেকে সমস্ত বিরোধী দল কয়েক মিনিটের জন্য ওয়াকআউট করে। স্পিকারের কাছে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে থাকা সত্ত্বেও, মোদী সরকার এনসিপিআই (NCPI)-কে আমন্ত্রণ জানানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার প্রতিবাদেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এনসিপিআই হল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ২০ জন তথাকথিত ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল।'' তবে বিরোধীদলীয় নেতারা পরে বৈঠকে যোগ দেন এবং তাঁদের এই বেরিয়ে যাওয়াকে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে জানান। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর আহ্বানে পার্লামেন্ট অ্যানেক্সে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সরকারের আইন প্রণয়ন কর্মসূচি এবং আসন্ন অধিবেশনে প্রাধান্য পেতে পারে এমন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ফ্লোর লিডাররা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র ক্ষোভ উগরে বলেছেন, "আজ কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, জেএমএম, আম আদমি পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স, বামপন্থী দল এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-সহ সমগ্র বিরোধী দল সর্বদলীয় বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেছে। এর কারণ হল, টেবিল অফিসের দেওয়া তালিকায় তথাকথিত এনসিপিআই (NCPI)—যা একটি অস্বীকৃত দল—তাদের সাথে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যসংখ্যা মিলিয়ে মোট ২৮ জন সদস্য দেখানো হয়েছে। ওই তথাকথিত বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের দলবদল বা সংযুক্তি স্পিকার অনুমোদন করেনি এবং তাঁদের সদস্যপদ বাতিলের ২০টি আবেদন এখনও বিচারাধীন। ৯১তম সংবিধান সংশোধনের পর আলাদা কোনো 'ব্লক' গঠনের আর কোনো অবকাশ নেই। তাহলে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কোন যুক্তিতে এই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে আমন্ত্রণ জানালেন এবং তাঁরা কীভাবে এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন? আমরা এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং সেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমরা আমাদের সহযোগী বিরোধী দলগুলোর প্রতিও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।"