শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর নিট (NEET) আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা হলেও বিতর্ক যেন থামছে না। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি দমনপীড়ন ও ধরপাকড়ের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে আগামী মঙ্গলবার, অর্থাৎ কালকের মধ্যেই সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার করে আটক পড়ুয়াদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে সিজেপি। অন্যথায় দেশজুড়ে ফের বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনে নামার চরম আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। সোমবার এই নিয়ে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস-সহ অন্যান্যরা জানিয়েছেন, দিল্লির যন্তরমন্তর-সহ দেশের অন্য যে কোনও প্রান্তে এই আন্দোলন চলাকালীন যদি কোনও ছাত্রছাত্রী অত্যাচারের শিকার হয়েছেন তাহলে তাঁদের লিগ্যাল সেলে প্রমাণহ তা জানাতে। তাঁদের টিম এই নিয়ে বিস্তারিত দেখে পদক্ষেপ করবে।
আরও পড়ুন: ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সংসদে বীরের সম্মানে অভ্যর্থনা! কটাক্ষ কংগ্রেসের
সৌরভ দাস সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে লিখেছেন, "বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষ করে অসম, বাংলা এবং বিহারে ছাত্রছাত্রী ও আন্দোলনকারীদের নিশানা করা হচ্ছে এমনটাই আমরা খবর পাচ্ছি। তাঁদের আটক করা হচ্ছে, কোথাও কোথাও গ্রেফতারও করা হচ্ছে। কোনও বিজেপি বা এনডিএ শাসিত রাজ্যে কোনও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে এখন অথবা ভবিষ্যতে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে না— কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আমরা আশ্বাস পেয়েছিলাম। তারপরেই আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি কিন্তু প্রতিশ্রুতি না রেখে এভাবে ধরপাকড়ের খবরে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।"
আইনি সহয়তার বিষয়ে সৌরভ লিখেছেন, "প্রত্যেক আন্দোলনকারীকে আশ্বস্ত করছি আমাদের আইনি সহায়ক দল সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। যথাসম্ভব আইনি সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব আমরা। যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের ছাড়ানোর চেষ্টা করব। প্রথম দিন থেকেই আমরা সেটা করে আসছি।"
আরও পড়ুন: ভিনধর্মে বিয়েতে বাধা! কী নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের
এরপরেই নাড্ডাদের উদ্দেশে সিজেপি-র সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ট্যাগ করে দাবি করা হয়, "অবিলম্বে যাতে ধৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দেশের কোনও জায়গায় যাতে কোনও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ না-করা হয়, সেই নির্দেশ দিতে হবে। এফআইআরগুলি প্রত্যাহার করতে হবে। সরকার কথা রাখবে সেই বিশ্বাস থেকেই আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিলাম। প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা, সিজেপি, সাধারণ মানুষ এবং লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রীর বিশ্বাসভঙ্গের সমান। সেটা মেনে নেব না। আমরা সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করা যায় না, সেটা পূরণ করতে হয়। এই প্রজন্মটা ঠিক এমনই—আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল, প্রতিকূলতা-জয়ী এবং এদের কোনও গৎবাঁধা ছাঁচে ফেলা অসম্ভব। প্রবীণরা অভিযোগ করতেই পারেন, তবে শেষমেশ তাঁদের আমাদের সাথেই মানিয়ে চলতে হবে!"
















