১৬ বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক। দু’জনেই প্রাপ্তবয়স্ক এবং পারস্পরিক সম্মতিতে বিয়ে করতে চান। কিন্তু ধর্ম আলাদা হওয়ায় তৃতীয় পক্ষের লাগাতার হুমকির জেরে বিয়ে ঘিরে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে ঐতিহাসিক বার্তা দিল কলকাতা হাই কোর্ট, ভারতীয় আইন অনুযায়ী দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সম্মতিতে বিয়েতে বাধা দেওয়া বেআইনি, তা সে যে ধর্মেই হোক। আগামী ২৯ জুলাই নির্ধারিত আইনি বিয়ের দিন ওই যুগলের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে স্থানীয় থানাকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
ভিনধর্মে বিয়েতে বাধা! কী নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের
Sponsored

হাওড়ার উলুবেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ওই হবু দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে একে অপরকে চেনেন। সম্প্রতি তাঁরা আইনি মতে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন এবং ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের কাছে নোটিশ জারি হয়। অভিযোগ, এরপর থেকেই তাঁদের ওপর চরম মানসিক চাপ ও হুমকি আসতে শুরু করে। পরিবারের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানোর পাশাপাশি বাড়িতে গিয়েও চাপ সৃষ্টি করা হয়। নিজেদের প্রাণ সংশয় ও নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হন ওই প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণী। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটি দায়ের হয়।
আবেদনকারীদের পক্ষে মামলাটি লড়েন প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। আদালতে তিনি সওয়ালে জানান, এই বিবাহের প্রধান বাধা হবু দম্পতির নিজেদের পরিবার নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের শাখা—অর্থাৎ তৃতীয় পক্ষ। ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের নোটিশ জারির পর তরুণীর বাবাকে ডেকে নিয়ে আপত্তি জানাতে বাধ্য করা হয় এবং দফায় দফায় হুমকি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষে অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল (AAG) রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানান, উলুবেড়িয়ার এই ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ আগে থেকেই ওয়াকিবহাল এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু করেছে। দু’জনেই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ইতিমধ্যেই কড়া নজর রাখছে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













