ইউক্রেনের চর্নোমোরস্ক বন্দরে একটি কার্গো জাহাজে আটকা পড়া ১৫ জন নাবিকের মধ্যে অন্তত ১৩ জনই ভারতীয়—জানিয়েছে ‘ফরওয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ (এফএসইউআই)। ব্ল্যাক সি তীরবর্তী এই বন্দরটির কাছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকায় আটকা পড়া নাবিকরা এক "ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী পরিস্থিতির" মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং "যেকোনো মুহূর্তে সরাসরি হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কায়" রীতিমত আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

এক্স (X)-এ একটি পোস্টে এফএসইউআই (FSUI) জানিয়েছে ১৩ জন ভারতীয় নাবিকসহ মোট ১৫ জন ক্রু-কে নিয়ে বর্তমানে ইউক্রেনের চর্নোমোরস্ক বন্দরে অবস্থানরত 'এমভি আমির-১' (M.V. AMIR1) জাহাজটি এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়েছে। অভিযোগ, জাহাজটির আশপাশে বারবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে। যে কোনও সময় হামলার শিকার হতে পারেন তাঁরা। তারা ভারত সরকার, জাহাজের মালিকপক্ষ, সংশ্লিষ্ট পতাকাবাহী দেশের (flag state) কাছে ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। জাহাজ থেকে তোলা একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এনে সংগঠনটি দেখিয়েছে ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে গোটা বন্দর। আতঙ্কে চিৎকার করছেন নাবিকরা। পরিস্থিতি ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। গত সপ্তাহে ব্ল্যাক সি-তে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারত সোমবারই ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এবং এই বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

প্রসঙ্গত, এই প্রথম না, এর আগেও ইউক্রেনের উপকূলে হামলার শিকার হয়েছে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ। সোমবার ওডেসার কাছে এমভি ওমোরফি (MV OMORFI)-তে হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। ওই জাহাজে চারজন ভারতীয় কর্মরত ছিলেন। তার আগে এমভি এজিএন রাগনার (MV AGN RAGNAR)-এ হামলার ঘটনায় চারজন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে দু'জনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনও দু’জন নিখোঁজ। জুলাই মাসের শুরুতে এমভি গোল্ডেন লিও (MV Golden Leo)-তে হামলায় ১০ জন নাবিকের মৃত্যু হয়েছিল। সেখানে চারজন ছিলেন ভারতীয়।