সাধারণ নিকাশি নালার পাইপ বদলের কাজ করতে গিয়েই মিলল কোটি কোটি টাকার গুপ্তধনের সন্ধান। বেলজিয়ামের (Belgium) Sint-Gillis-Dendermonde এলাকায় মাটির নীচ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ সোনা ও পুরনো মুদ্রা। উদ্ধার হওয়া সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরো, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৮ কোটি টাকা। চাঞ্চল্যকর এই আবিষ্কারের সূত্রপাত ১৮ বছরের নির্মাণকর্মী কোবের (Construction worker Kobe) নজরে আসা কিছু ধাতব বস্তু থেকে। প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ ইউরোর কয়েন বলে মনে হলেও পরে একটি সোনার বার দেখতে পেয়েই সন্দেহ হয় তাঁর।
ঘটনার পর তল্লাশি চালিয়ে মাটির নীচে একটি পুরনো ভূগর্ভস্থ ঘরের দেওয়ালের ভিতর থেকে একাধিক সোনার সামগ্রী উদ্ধার হয়। সেগুলির মধ্যে ছিল সোনার বার, কয়েন এবং বিভিন্ন আকারের সোনার টুকরো। যে জায়গা থেকে সম্পদগুলি মিলেছে, সেটি ১৯ শতকে তৈরি একটি পুরনো ভিলার অংশ। বাড়িটির সঙ্গে ব্রিউয়ারি ব্যবসায়ী Theophilus Van Assche-এর যোগ ছিল। ১৮৯৯ সালে সেখানে মদ তৈরির ব্যবসা শুরু হয়েছিল। প্রায় সাত দশক পর, ১৯৭০ সালে সেই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পুরনো বাড়িটিতে সংস্কারের কাজ চলছিল। সেই কাজের সময়ই দেওয়ালের ভিতরে এত বিপুল সম্পদ থাকার বিষয়টি সামনে আসে।
তবে সবচেয়ে বড় রহস্য এখনও রয়ে গিয়েছে। কার ছিল এই সোনা? উদ্ধার হওয়া সম্পদ আপাতত প্রশাসনের হেফাজতে নিরাপদ জায়গায় রাখা হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সেগুলি কী ভাবে সেখানে এল, প্রকৃত মালিক কে এবং সম্পদের সঙ্গে অতীতের কোনও অপরাধ বা বেআইনি লেনদেনের যোগ রয়েছে কি না। সম্ভাব্য দাবিদারদের মধ্যে রয়েছে নির্মাণকাজের ঠিকাদার, বাড়িটির সংস্কারের দায়িত্বে থাকা সংস্থা এবং Van Assche পরিবারের উত্তরসূরিরা। আইন মেনে মালিকানা নির্ধারণের পরই ঠিক হবে এই বিপুল সম্পদের পরিণতি। আর হঠাৎ মাটির নীচে সোনার হদিশ দেওয়া কোবের আশা, শেষ পর্যন্ত অন্তত আবিষ্কারক হিসেবে তিনি কোনও পুরস্কার পেতে পারেন।
















