হড়পা বানে (Flash Flood in Nepal) বিধ্বস্ত নেপালে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একের পর এক শহর ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। বাড়ি-অফিস-রাস্তাঘাট জলের তলায়, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সে দেশের বিদেশ মন্ত্রী শিশির খানাল কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এক বেসরকারি সংস্থার সামিটে জানান, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় নিখোঁজ!অধিকাংশই কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন। বুধবার যখন হড়পা বান আসে তখন ভারতীয়রা সেই পথেই ছিলেন। ক্রমাগত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী নেপালের দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত মোট ২০৭ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ কয়েক হাজার মানুষ। বিপর্যয়ের ভয়াবহতার পুরো ছবি স্পষ্ট না হলেও ইতিমধ্যেই দুর্যোগের মুহূর্তের যে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে (সত্যতা যাচাই করা হয়নি) তার থেকে এটা পরিষ্কার যে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। 

ধ্বংসস্তূপ আর বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার মাঝে পাহাড়ি ভূখণ্ডে উদ্ধার কাজে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে (disaster management team)। ভারত থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৭ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাংলার অন্তত ৩১ পর্যটক এখনও নিখোঁজ। ক্রমাগত কাঠমান্ডুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারতীয় দূতাবাস। নেপালের জলরোষের কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলছেন আবহাওয়াবিদরা। নেপালের পাহাড়ি এলাকায় বন্যার জল ধীরে ধীরে নেমে এলে ভারত- বাংলাদেশের দিকে প্রবাহিত নদীর জলস্তরে তার প্রভাব পড়বে। সেক্ষেত্রে বিশেষ নজর রয়েছে গণ্ডক-নারায়ণীর দিকে। ভৌগোলিক মানচিত্র অনুযায়ী ভোতেকোশি নদী মিশেছে ত্রিশূলীতে। এই নদী ভারতের ভূখণ্ডে ঢোকার পর গণ্ডক নামে প্রবাহিত। ফলে বাড়ছে উদ্বেগ। 

বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই বিহারের ৯ জেলাকে সতর্ক (Alert in Bihar) করা হয়েছে। এদিন সকাল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী পশ্চিম চম্পারন গণ্ডক নদীর জল বাড়ছে। ব্যারেজের ৩৬ টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের সাত জেলায় জারি লাল সর্তকতা। এখানেই শেষ নয়, নেপালি যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে তার পিছনে পাহাড়ি ধস এবং নদীপথে বাধা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিজ্ঞানীরা। এখনো জল আটকে রয়েছে বলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আবহবিদরা সতর্ক করেছেন। ফলে প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে গেলে ফের বিপুল জলরাশি নেমে আসতে পারে।