নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের (Nepal floods Harpa) তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ (বেসরকারি সূত্রে খবর)। মৃত্যুপুরীর আকার নিয়েছে নেপাল। এই বিপর্যয়ের মধ্যে বাংলার নিখোঁজ পর্যটকদের তালিকা থেকে এক জনের সন্ধান মিলেছে। মানস সরোবর (Manas Sarovar) যাত্রাপথে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া দুর্গাপুরের বামুনাড়ার বাসিন্দা মৌসুমি গঙ্গোপাধ্যায়ের (Mousumi Gangopadhyay, a resident of Bamunara, Durgapur) খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু সেই খবরের মধ্যেও উদ্বেগ কাটছে না। এখনও অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় (Arindam Gangopadhyay), তারকেশ্বরের স্নেহাশিস দত্ত (Tarakeswar Snehasis Dutta), বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দম্পতি স্বপন ও মৌ মণ্ডল (Swapan and Mou Mondal, a retired teacher couple from Basirhat) এবং খড়্গপুরের স্বপন কুমার সিনহা-সহ (Swapan Kumar Sinha from Kharagpur) একাধিক বাঙালি পর্যটকের কোনও সন্ধান নেই।
দুর্গাপুরের অরিন্দম ও মৌসুমি গঙ্গোপাধ্যায় মানস সরোবরের উদ্দেশে নেপাল হয়ে যাত্রা করেছিলেন। ভয়াবহ দুর্যোগের পরে দুজনের সঙ্গেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে মৌসুমির সন্ধান মিললেও অরিন্দম এখনও নিখোঁজ। একই সঙ্গে বসিরহাটের খান বাহাদুর রোডের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্বপন মণ্ডল এবং তাঁর স্ত্রী মৌ মণ্ডলের সঙ্গেও বিপর্যয়ের পর থেকে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কৈলাস যাওয়ার উদ্দেশে নেপালে গিয়েছিলেন ওই দম্পতি। কিন্তু বিপর্যয়ের পর থেকে মোবাইল ফোনও বন্ধ বলে জানিয়েছে পরিবার।
অন্য দিকে, খড়্গপুরের বাসিন্দা স্বপন কুমার সিনহাও মানস সরোবরগামী একটি পর্যটক দলের সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ অগাস্ট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর শেষবার কথা হয়েছিল। তারপর থেকে আর কোনও খবর নেই। একইভাবে তারকেশ্বরের চাউলপট্টির বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্তেরও খোঁজ মিলছে না। গত ২১ অগাস্ট ৩২ জনের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। বুধবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিট নাগাদ স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হওয়ার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
রাসুয়া ও নেপাল-তিব্বত সীমান্তের (Nepal-Tibet border) বিস্তীর্ণ এলাকায় হড়পা বানের জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি স্রোতের সঙ্গে কাদা ও পাথরের তোড়ে ভেসে গিয়েছে রাস্তা, সেতু ও বসতি। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বহু মানুষ ও পর্যটকের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে, ভারতীয় নাগরিকদের সন্ধানে ভারতীয় দূতাবাসও নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে।
এক জনের সন্ধান মেলায় নিখোঁজদের পরিবারের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও এখনও বহু বাঙালি পর্যটকের কোনও হদিশ না মেলায় উৎকণ্ঠা ক্রমশ বাড়ছে। নিখোঁজ স্বজনদের নিরাপদে ফেরার খবরের অপেক্ষায় এখন পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পরিবার।
















