প্রকৃতির রোষানলে নেপাল। কয়েক দিন আগেই হড়পা বানে বিধ্বস্ত হিমালয়ের কোলের ছোট্ট দেশ, বিপর্যয়ের ক্ষত এখনও দগদগে। এরইমধ্যে ফের নতুন করে বিপদের বার্তা। সেদেশের অন্যতম প্রধান পার্বত্য নদী ভোটে কোশীতে (Bhote Koshi River)  নতুন করে জলস্ফীতি ও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

রবিবার নেপালের ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’র (NDRRMA) পক্ষ থেকে  হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবিলম্বে সমস্ত ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

NDRRMA –র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রসুওয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান এবং তার আশপাশের অঞ্চলে যেসব ভারতীয় ও নেপালি উদ্ধারকারী দল ও বির্পযয় মোকাবিলা দলের সদস্যদের অবিলম্বে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে।   চরম সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

ভূমিধসে নেমে আসা মাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নদীর প্রবাহ আটকে দেওয়ায় একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। সেখানে জল জমতে থাকায় হ্রদটির বাঁধের মতো অংশ ভেঙে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ জলে ফের প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এই ঝুঁকির কারণে শুক্রবার কিছু সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছিল।পরে আবার উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।মাইকে বিভিন্ন এলাকায় প্রচার করা হয়।

 

এদিকে প্রতি ঘণ্টায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শনিবার রাত পর্যন্ত ৬৬৯টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত শনাক্ত করা গিয়েছে মাত্র ২০টি দেহ। সেগুলি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অশনাক্ত দেহ আর বেশি দিন সংরক্ষণ করে রা্খার জায়গা নেই। তাই গণকবরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, নেপালের বিপর্যস্ত এলাকা থেকে ১০৮ জন ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যদিও এখনও নিখোঁজ ২৭৫ জন। শনিবার রাতে দিকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। সমাজ মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন, বিপর্যয়ের ৩দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও নেপালে নিখোঁজ রয়েছেন ২৭৫ জন ভারতীয়। বিপর্যস্ত এলাকা থেকে ১০৮ জন ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আরও ৫০ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। শুধু তাই নয়, তিব্বত সীমান্ত দিয়ে চিন থেকে নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন ৫৯৮ জন ভারতীয়। 

বিপর্যয়ের চতুর্থ দিনে শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০ মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন ১৬৩ জন বিদেশি পর্যটক ও নাগরিক।