বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলির সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে ফের সরব হলেন হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় (Hasina's son Sajeeb Wazed Joy)। শনিবার এক্স-এ দেওয়া পোস্টে শেখ হাসিনার পুত্র মাওলানা ইকরামুল হককে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, আল-কায়দা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS)-এর গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বাংলাদেশি পুলিশ যে ইকরামুলকে চিহ্নিত করেছিল, ২০২৪ সালের অক্টোবরে জামিনে মুক্তির পর তাঁর আর হদিস মেলেনি। ইকরামুলকে ২০২৩ সালের ৩০ মে ঢাকার মাদারটেক এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ১০ অক্টোবর ২০২৪ কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি সেন্ট্রাল জেল থেকে জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর প্রায় ২২ মাস কেটে গেলেও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য নেই বলে সাম্প্রতিক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইকরামুলকে ঘিরে বাংলাদেশের (Bangladesh) নিরাপত্তা সংস্থাগুলির উদ্বেগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালে গ্রেফতারের সময় পুলিশ তাঁকে AQIS-এর ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ বলে দাবি করেছিল। আবু তালহা, মাওলানা সাবেত, নূর হোসেন, মনসুর এবং মিলন এই পাঁচটি নামে তিনি পরিচিত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও ছিল। ফলে জামিনের পর তাঁর অবস্থান অজানা হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ফের সামনে আসায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জয়ের বক্তব্যের সঙ্গে একই সময়ে মিলে যাচ্ছে রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক সতর্কতাও। ১৩ অগাস্ট প্রকাশিত রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের ৩৮তম রিপোর্টে বলা হয়েছে, AQIS বাংলাদেশকে কাজে লাগিয়ে সেখানে সন্ত্রাসবাদী সেল তৈরির চেষ্টা করতে পারে। রিপোর্টে সংগঠনটির কাঠামোগত পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক স্তরে সক্রিয়তা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য পুনর্গঠন নিয়ে আশঙ্কাটি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নেই; আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণেও বিষয়টি উঠে এসেছে।
তবে রাষ্ট্রসংঘের এই মূল্যায়ন নিয়ে বাংলাদেশের সরকারের অবস্থান ভিন্ন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি রিপোর্টটি পড়েননি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বক্তব্য, রিপোর্টে সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে এবং শুধুমাত্র এমন অনুমানের ভিত্তিতে সরকার কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে এক দিকে রাষ্ট্রসংঘের সতর্কবার্তা, অন্য দিকে ঢাকার তরফে সেই মূল্যায়নকে গুরুত্ব না দেওয়ার অবস্থান দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট ফারাক তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অতীতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন জয়। তাঁর পোস্টে ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট শেখ হাসিনার সভায় গ্রেনেড হামলা এবং ২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট দেশজুড়ে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। সেই সময়ের জঙ্গি তৎপরতার স্মৃতি সামনে এনে তাঁর অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার প্রশ্নকে অবহেলা করলে বাংলাদেশ ফের একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে পারে। তবে বিএনপি-জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান, জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে জয়ের রাজনৈতিক অভিযোগগুলিকে দাবি হিসেবেই দেখা প্রয়োজন; সেগুলির সবকটির স্বাধীন প্রমাণ মেলেনি।
৫ অগাস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে যোগ দিয়েও জয় বাংলাদেশের জঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে ভারতকে সতর্ক করেছিলেন। এবার রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট এবং ইকরামুল হকের দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার বিষয়টিকে সামনে রেখে সেই উদ্বেগই আরও জোরালো করেছেন তিনি। আপাতত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, জামিনে মুক্তির পর ইকরামুলের অবস্থান কেন এখনও নিশ্চিত করা গেল না এবং বাংলাদেশে AQIS নতুন করে সক্রিয় হওয়ার যে সম্ভাবনার কথা রাষ্ট্রসংঘ জানিয়েছে, তা মোকাবিলায় ঢাকা কী পদক্ষেপ করে।
















