গৃহযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী স্মৃতি যেন আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে শ্রীলঙ্কাকে। জাফনার নিকটবর্তী চেম্মানি এলাকায় মাটি খুঁড়তেই একে একে বেরিয়ে এল স্তূপীকৃত নরকঙ্কাল ও করোটি। শিশু-সহ এখনও পর্যন্ত ৫৮২টি কঙ্কাল উদ্ধার করেছে ফরেন্সিক দল। প্রায় ২৬ বছরের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ অবসানের পর আবিষ্কৃত এই গণকবরটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিপুল সংখ্যক মানবদেহের অবশেষ মেলার ঘটনায় যুদ্ধের সময় নিখোঁজ হওয়া হাজার হাজার তামিল নাগরিকের ভাগ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


জাফনা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে চেম্মানির ওই গণকবরস্থলে তৃতীয় পর্যায়ের খননকাজ চালানো হয়। টানা বৃষ্টি এবং আর্থিক সঙ্কটের কারণে গত সাত মাস এই প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি তা ফের শুরু হতেই এই ভয়াবহ দৃশ্য প্রকাশ্যে আসে। কঙ্কালের পাশাপাশি মাটির নীচ থেকে উদ্ধার হয়েছে শিশুদের দুধের বোতল, খেলনা, স্কুলব্যাগ, জুতো ও চুড়ি। উদ্ধার হওয়া একটি কঙ্কালের হাত বুকের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় মেলায় ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বহু মানুষকে ঠাণ্ডা মাথায় মৃত্যুদণ্ড দিয়ে একসঙ্গে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। এর আগে দুটি পর্যায়ে মোট ৫৪ দিন খননকার্য চালিয়ে ২৪০টি কঙ্কাল চিহ্নিত করা হয়েছিল।


১৯৯৮ সালে শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর এক সদস্য বিচার চলাকালীন প্রথম চেম্মানি গণকবরের কথা প্রকাশ্যে আনেন। তাঁর দাবি ছিল, হেফাজতে থাকা বহু তামিলকে হত্যা করে এই এলাকায় পুঁতে ফেলা হয়। এর পর ১৯৯৯ সালে ১৫টি কঙ্কাল উদ্ধার হলেও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এগোয়নি। দীর্ঘ দিন পর সেই গণকবর থেকে বিপুল কঙ্কাল উদ্ধার হওয়ায় মানবাধিকার সংগঠন ও নিখোঁজদের পরিবারগুলি আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কার বর্তমান সরকার জানিয়েছে, দেশের নিজস্ব আইন ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমেই তদন্ত চালানো হবে এবং কোনও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। কঙ্কালগুলির পরিচয় ও মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে ফরেন্সিক পরীক্ষা জারি রয়েছে।