“আমি মুজিব কন্যা বলছি…। ওরা আমাকে জেলে ভরতে পারে। মিথ্যে মামলায় ফাঁসাতে পারে। আমি বাংলাদেশে (Bangladesh) ফিরবই, সে দেশের মানুষের জন্য ফিরব। দেশকে আবার সঠিক পথে আনার জন্য ফিরব।” বুধবার, দিল্লির (Delhi) ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবে ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Former Prime Sheik Hasina)। তাঁর কথায়, “ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস, সেই মাসেই আমি বাংলাদেশে যাব।“
বিজয়ের মাসে বাংলাদেশে যাব: ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা ‘মুজিব-কন্যা’ হাসিনার
‘মুজিব-কন্যা’ বলেন, “সেদিন কোনও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হয়নি। মিথ্যে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। গত দু’বছর ধরে বাংলাদেশকে ভুগতে দেখেছি। সে দেশে ভয়ের পরিবেশ গ্রাস করে ফেলেছে। ১৯৭১ সালে যে ৩০ লক্ষ মানুষ বাংলাদেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছিলেন, এটা সেই বাংলাদেশ নয়।
Sponsored

গণঅভ্যুত্থানে পর এই দিনেই বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। তার পর থেকে অজ্ঞাতবাসে রয়েছে তিনি। দুবছর ওই দিনেই দেশে ফেরার দিন ঘোষণা করলেন ‘মুজিব-কন্যা’। বলেন, “সেদিন কোনও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হয়নি। মিথ্যে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। গত দু’বছর ধরে বাংলাদেশকে ভুগতে দেখেছি। সে দেশে ভয়ের পরিবেশ গ্রাস করে ফেলেছে। ১৯৭১ সালে যে ৩০ লক্ষ মানুষ বাংলাদেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছিলেন, এটা সেই বাংলাদেশ নয়। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল না। শুরুতে আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সংগঠিত কিছু গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের দাবিকে হিংসাত্মক আন্দোলনের রূপ দেয়। আমরা কোটা ব্যবস্থা বাতিল করি ও আলোচনার উদ্যোগ নিই, ৩ জন মন্ত্রী আলোচনাতেও বসেন। কিন্তু তারা আমার পদত্যাগের দাবি তোলেন, মিথ্যা অপপ্রচার চালান।”
গণহত্যা-সহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। দেওয়া হয়েছে ফাঁসির সাজা। ফিরলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছে সে দেশের সরকার। তবে দেশে তিনি ফিরতে চান- একথা জানান হাসিনা। বলেন, “তারা আমাকে কারাগারে পাঠাতে পারে, হত্যাও করতে পারে… যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে, কিন্তু আমাকে ফিরতেই হবে।”
দেশের সম্পত্তি আন্দোলনের নামে নষ্ট করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলন ছিল না। বরং ক্ষমতা দখলের উদ্দেশে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পরিকল্পনা হয়েছিল। ১৫ই জুলাইয়ের পর থেকেই এই আন্দোলনের চরিত্র বদলে যায়। দেশের সম্পত্তি পুড়ে খাক হয়েছিল সেদিন।” এর আগেও একাধিকবার তাঁকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকার। কিন্তু তাতেও তাঁকে দমিয়ে রাখা যায়নি। তিনি 'মুজিব কন্যা' এ কথা এদিন সদর্পে জানিয়ে দিলেন শেখ হাসিনা।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাসিনার পাশপাশি ছিলেন তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সাকিব-আল-হাসান। সজীব বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আরেকটি পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে। পুলিশি হেপাজতে আওয়ামী নেতাকর্মীদের খুন করা হচ্ছে, সংবাদমাধ্যম আক্রান্ত এবং দেশ আজ দুষ্কৃতীদের রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।’’
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুদীর্ঘ বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকতেই পারে কিন্তু বারবার সময়ে-অসময়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored











