ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আমেরিকাকে সমৃদ্ধ করার আকাঙ্খায় বাণিজ্যে একের পর এক কড়া নিয়ম চাপিয়েই চলেছেন। কিন্তু প্রায় প্রতিবারই তিনি নিজের দেশের চাপেই আটকে যাচ্ছেন। ভারত-সহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের উপর নতুন আমদানি শুল্ক চাপানো নিয়ে এবার আইনি লড়াই ট্রাম্পের। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে আমেরিকারই ২৫টি ডেমোক্র্যাট-শাসিত রাজ্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। অভিযোগ, ট্রাম্প নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন।

নিউইয়র্কের ‘ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এ নিউ ইয়র্ক, ওরেগনের সহ ২৫টি ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্য একটি মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগ, আদালত যেই সিদ্ধান্তগুলোকে অবৈধ বলেছিল, ট্রাম্প সেগুলোকেই আবার অন্য পথে চালু করতে চাইছেন। আইনের মারপ্যাঁচ এবং নতুন নিয়ম করে জোর করে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চাইছেন ট্রাম্প। এই মর্মে ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ড ট্রাম্পকে নিশানা করে বলেছেন, প্রতিটি আইনি লড়াইয়ে হেরে গিয়েও ট্রাম্প সাধারণ পরিবার ও স্থানীয় ব্যবসার উপর জোর করে বাড়তি চাপ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাইছেন।

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতে তৈরি পণ্য-সহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আরও মোট ৬০টি দেশের থেকে আসা পণ্যের উপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ নতুন কর চাপিয়ে দেন। ট্রাম্পের দাবি যে সকল দেশ জোর করে শ্রম' বা বন্ডেড লেবার বন্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে পারছে না, তাদের উপর এই শুল্ক বসানো হচ্ছে। ভারত যথাযোগ্য কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ভারতের উপর চাপানো ১২.৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এই করের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল, সার এবং নির্দিষ্ট কিছু চুক্তিবদ্ধ পণ্য। ট্রাম্প আগেরবারের চিনের উপর শুল্ক বসাতে ‘ট্রেড অ্যাক্ট অব ১৯৭৪’-এর ৩০১ নম্বর ধারা ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু এবার তিনি প্রায় সমস্ত দেশের উপর একই সঙ্গে শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যদিও সেটা আমেরিকান আদালত অবৈধ ঘোষণা করে। তবে আদালত শেষ পর্যন্ত কী রায় দেয়, ভারত-সহ আন্তর্জাতিক বাজারের ভবিষ্যৎ আপাতত সেটার ওপরেই নির্ভরশীল।