তিনি নাকি মার্কিন গুপ্তচর বিভাগের সদস্য! ঠিক এমনটাই বলে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে বোকা বানিয়ে ফেললেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যবসায়ী। নিজেকে সিআইএ এজেন্ট বলে দাবি করা ওই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির নাম গৌরব শ্রীবাস্তব (Gaurav Srivastava)। ভুয়ো পরিচয়ে ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠকও সেরে ফেলেছিলেন তিনি। ফাইটার জেট, হেলিকপ্টার, মিলিটারি কমান্ড সেন্টারের ভুয়ো প্রতিরক্ষা চুক্তিও করে ফেলেছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি সামনে আসতেই তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল। ।

লখনউয়ের বাসিন্দা অভিযুক্ত গৌরব নিজেকে সিআইএ (CIA) এজেন্ট বলে দাবি করে ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ আধিকারিক ও শিল্পপতিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তোর সঙ্গেও বেশ ভাল সম্পর্ক তৈরি হয় তাঁর। এমনকি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বেশ ভালোই কথা হত গৌরবের। সময়ের সাথে শুরু হয় কোটি কোটি টাকার চুক্তি। ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্টের সফর সঙ্গী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এদিকে চুক্তির নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয় না। তাঁর এক ব্যবসায়িক অংশীদারের দৌলতে গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে। অংশীদার নিলস ট্রুস্ট গৌরবের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন। বলা হয়, তিনি তাঁর সংস্থার ৫০ শতাংশ অংশিদারিত্ব গৌরবকে দিয়েছিলেন কিন্তু গৌরব ইন্দনেশিয়ায় নিজেকে সিআইএ এজেন্ট বলে অনেক অন্যায় সুবিধা নিত। 

সূত্রের খবর, মাত্র দু’বছরের মধ্যেই তাঁর সঙ্গে যুক্ত চারটি সংস্থা ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং সে দেশের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে পাঁচটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর মধ্যে ৩৬টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, ইউএইচ-৬০ ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার, সি-১৩০ পণ্যবাহী বিমান কেনার চুক্তিও করা হয়েছিল। তবে গৌরবের যে মার্কিন প্রশাসনের প্রতিনিধি নন আমেরিকার প্রাক্তন প্রতিরক্ষা সচিব ক্রিস্টোফার মিলার সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে তিনি প্রশাসনের এত বিশ্বাস অর্জন করলেন, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গৌরব।