কঠিন সময়ে নেপালের পাশে দাড়িয়ে উদ্ধার কাজে সামিল হওয়ার আবেদন জানিয়েছিল একাধিক দেশ। কিন্তু নেপাল প্রশাসন প্রথমে সেই আবেদনে সাড়া না দিলেও পরে সুর নরম করল। আন্তর্জাতিক মহলের চাপের কাছে নতিস্বীকার করে কিছু এলাকায় বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে ঢুকতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল নেপাল প্রশাসন। 

নেপালের এক সরকারি আধিকারিক বলেন, ‘‘আমাদের উপরে আন্তর্জাতিক মহলের প্রবল চাপ আছে। তাদের দেশের নাগরিকেরা যেহেতু নিখোঁজ, তাই তাদের পাঠানো উদ্ধারকারী দলকে অন্তত যাতে নেপালে ঢুকতে দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। ফলে আমরা সিদ্ধান্ত বদল করেছি। কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞকে আমরা যেতে দেব।’’ 

কিন্তু কেন বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে তাদের দেশে ঢুকতে দিচ্ছিল না নেপাল প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে খবর, নেপালের সেনা এবং পুলিশের তরফেই উদ্ধারকাজে বিদেশি সাহায্য না নেওয়ার জন্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হয়। এর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা আছে।  ২০১৫ সালের বিপর্যয়ের  অনেক দেশ থেকে উদ্ধারকারীরা গিয়েছিলেন। তাতে উদ্ধারকাজে সমন্বয়ের অভাব লক্ষ করা গিয়েছিল।  

এ দিকে, হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে অনেকেই।ভারতের পক্ষ থেকে ত্রাণ বোঝাই বিমান ফের পাঠানো হয়েছে নেপালে। বিভিন্ন সংস্থা তো বটেই, ব্যক্তিবিশেষও সাহায্য পাঠাচ্ছেন নেপালে। ত্রাণের পাশাপাশি আর্থিক সাহায্যও আসছে একাধিক দেশ থেকে। গত ৩৬ ঘণ্টায় নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে জমা পড়েছে ১৯১ কোটি নেপালি রুপির ( ১২০ কোটি টাকা) বেশি অনুদান।

শুক্রবার রাতে ভারতের  বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল  সমাজ মাধ্যমে জানিয়েছেন,  ৩২০ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি বা যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে চিন থেকে নেপালে পৌঁছনো ১৪৯ জন ভারতীয় নাগরিকের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এখনও ৪০০ জন ভারতীয় নিরাপদে চিনে রয়েছেন। যাঁদের সঙ্গে বিদেশমন্ত্রক নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। 

দ্বিতীয় দফায় ফের বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।  চীন সতর্ক করে বলেছে, ভূমিধসের কারণে তৈরি হওয়া হ্রদটির জল উপচে পড়ার সম্ভাবনা আছে।

ভূমিধসে নেমে আসা মাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নদীর প্রবাহ আটকে দেওয়ায় একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। সেখানে জল জমতে থাকায় হ্রদটির বাঁধের মতো অংশ ভেঙে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ জলে ফের প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এই ঝুঁকির কারণে শুক্রবার কিছু সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছিল।পরে আবার উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।মাইকে বিভিন্ন এলাকায় প্রচার করা হয়।

 ভয়াবহ হড়পা বানে বিভিন্ন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, জলে ভাসতে থাকা মৃতদেহের চুলের মুঠি ধরে রেখেছেন এক ব্যক্তি। তাঁর কান থেকে খুলে নেওয়া হচ্ছে দুল। এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ২ জনকে। প্রতি ঘণ্টায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত ৫৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।