কানাডার টরন্টোতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক মহিলাকে খুনের ঘটনায় প্রায় সাত মাস পর ৩২ বছরের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২০ ডিসেম্বর টরন্টোর একটি বাড়িতে ৩০ বছরের হিমাংশি খুরানার মৃতদেহ পাওয়া যায়। তাঁর সঙ্গী টরন্টোর বাসিন্দা আব্দুল গাফুরি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশের কাছে তখন ‘ওয়ান্টেড’ বা পলাতক হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। শনিবার এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, শুক্রবার টরন্টোর একটি বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে কানাডায় ফিরিয়ে আনার জন্য টরন্টো পুলিশের ‘ফিউজিটিভ স্কোয়াড’ ও ‘হোমিসাইড ইউনিট’ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুলিশ বাহিনীর সাথে মিলে কাজ করেছে। তবে তিনি কোন দেশে ছিলেন সেটা উল্লেখ করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, ১৯ ডিসেম্বর রাতে হিমাংশি খুরানাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। টরন্টো পুলিশ এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানায়, রাত ১০.৪১ নাগাদ তারা স্ট্রাচান অ্যাভিনিউ ও ওয়েলিংটন স্ট্রিট ওয়েস্ট এলাকা থেকে এক মহিলার নিখোঁজ হওয়ার খবর পায় এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পরের দিন সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ ওই একই এলাকার একটি বাড়ির ভেতর থেকে মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানায় ঘটনাটি পরিকল্পনা মাফিক খুন। তদন্ত চলাকালীন একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে যে গাফুরি ও হিমাংশি খুরানার মধ্যে একটি "ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক" ছিল। এরপরেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করার জন্য দেশব্যাপী পরোয়ানা জারি করে এবং তাঁর ছবিও প্রকাশ্যে আনে। 

 

টরন্টোতে ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল হিমাংশি খুরানার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে যে তারা তাঁর পরিবারকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে। 'এক্স' (X)-এ দেওয়া এক বার্তায় তারা জানায়, ''টরন্টোতে তরুণী ভারতীয় নাগরিক হিমাংশি খুরানার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও স্তম্ভিত। এই মুহূর্তে আমরা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। গত কয়েক দিন ধরে কনস্যুলেট বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে।"