পাকিস্তানের রাজনীতিতে ফের অস্থিরতা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Former Prime Minister Imran Khan) চিকিৎসা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশকে কেন্দ্র করে সরকারের সঙ্গে আদালতের টানাপড়েন, গুরুত্বপূর্ণ শরিক পিপিপির সঙ্গে শাসক পিএমএল-এনের দূরত্ব এবং বিরোধীদের সম্ভাব্য যৌথ মঞ্চ সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ (Prime Minister Shehbaz) শরিফের সরকারের উপর চাপ বাড়ছে। এখনও অনাস্থা প্রস্তাবের কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবে একের পর এক রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে থাকায় সংসদে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ইমরানের চিকিৎসা ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থেকে। আদিয়ালা জেল থেকে তাঁকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে (Shifa International Hospital, Islamabad) নিয়ে গিয়ে বহুবিভাগীয় মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। সরকার সেই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানালেও শেষ পর্যন্ত ইমরানকে জেল থেকে বের করে পিআইএমএসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পর তাঁকে ফের জেলে পাঠানো হয়েছে। পিটিআই ও ইমরানের পরিবারের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ এড়িয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, নিরাপত্তাজনিত কারণেই শেষ মুহূর্তে হাসপাতাল পরিবর্তন করা হয়। ফলে বিষয়টি ফের আদালতে উঠলে সরকারকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।

অন্য দিকে, পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির (PPP Chairman Bilawal Bhutto Zardari) অবস্থান শেহবাজ সরকারের জন্য আরও অস্বস্তি বাড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগ, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পিএমএল-এনের সঙ্গে তাঁদের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কাশ্মীর নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, সংসদীয় কার্যকলাপ এবং নতুন প্রদেশ গঠনের মতো বিষয় নিয়ে দুই দলের দূরত্ব প্রকাশ্যে এসেছে। বিলাওয়াল স্পষ্ট করেছেন, তাঁর দলের অভিযোগগুলির সন্তোষজনক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সেনেট ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সরকারের আইনকে সমর্থন করা হবে না। ফলে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানোর ক্ষেত্রে শেহবাজ সরকারের সামনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতির সুযোগে বিরোধী শিবিরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জেইউআই-এফ প্রধান মৌলানা ফজলুর রহমান (JUI-F chief Maulana Fazlur Rehman) জানিয়েছেন, বিরোধী দলগুলি নীতিগত ভাবে একটি যৌথ মঞ্চ গড়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির বিরোধী দলনেতা মেহমুদ খান আচাকজাই, সেনেটের বিরোধী দলনেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস-সহ একাধিক নেতার সঙ্গে আলোচনার পর সংসদের ভিতরে সমন্বিত কৌশল নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। যৌথ মঞ্চের কাঠামো ও পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আগামী বৈঠকে আরও আলোচনা হতে পারে।

সব মিলিয়ে ইমরান খানকে ঘিরে আইনি জটিলতা, পিপিপির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং বিরোধীদের সম্ভাব্য ঐক্য এই তিনটি চাপ একই সময়ে তীব্র হলে পাকিস্তানের সংসদীয় রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। পিপিপি যদি শেষ পর্যন্ত বিরোধী শিবিরের সঙ্গে সক্রিয় ভাবে হাত মেলায়, তা হলে অনাস্থা প্রস্তাবের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও সেই পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি, বিলাওয়াল ভুট্টোর পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং বিরোধীদের আসন্ন বৈঠকের দিকেই এখন নজর পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলের।