ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের উত্তাপ বাড়িয়ে কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দখলের দাবি জানিয়ে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের মধ্যেই গভীর সমুদ্রে কার্যত মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন মার্কিন নৌসেনারা। মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় টানা কয়েক মাস ধরে মোতায়েন থাকা 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন'-সহ একাধিক মার্কিন যুদ্ধজাহাজে খাবার ও পানীয় জলের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে প্রকাশ্যে এসেছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে নজরদারি চালানো মার্কিন রণতরীগুলিতে মজুত রসদ প্রায় শেষের পথে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, কর্তব্যরত নৌসেনাদের একটি বড় অংশ অনাহার ও তীব্র জলকষ্টের মুখে পড়েছেন। জাহাজে কর্মরত সেনাকর্মীরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমুদ্রে তাঁদের এই চরম দুর্দশার কথা জানানোর পরেই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।

এক মার্কিন সেনার বয়ান অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা শুরুর আগে থেকেই তাঁদের মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও জাহাজ তীরে ভেড়ার কোনও সুযোগ পায়নি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে স্থলের মুখ দেখেননি তাঁরা। প্রথমে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ আব্রাহাম লিঙ্কনে রসদের ঘাটতি শুরু হলেও, পরে ওই অঞ্চলে থাকা অন্যান্য মার্কিন রণতরীতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সেনাদের অভিযোগ, অভিযান শুরুর দিন থেকেই জাহাজের স্বাভাবিক পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। স্নান ও কাপড় কাচার ওপর কড়া বিধিনিষেধ জারি হওয়ায় পরিস্থিতি চরম অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। এমনকী অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে যুদ্ধজাহাজের শৌচাগারগুলিও ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি এই অভিযানের জেরে শারীরিক ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বহু নৌসেনা। কুয়েতের জলসীমায় থাকা এক সেনার বাবা প্রশাসনের কাছে জরুরি আর্জি জানিয়ে বলেছেন, তাঁর ছেলে তীব্র অপুষ্টি, ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদে ভুগছেন। অবিলম্বে রণতরী থেকে উদ্ধার করে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক সেনা কর্তৃপক্ষ। সামরিক হুঙ্কারের মাঝে খোদ মার্কিন সেনার এই অভ্যন্তরীণ সংকট এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে ওয়াশিংটনের কৌশলগত প্রস্তুতিকে।