নতুন স্কুটার (Scooter) কেনার পরিকল্পনা করছেন? বাজারে পেট্রোলচালিত স্কুটারের (Petrol Scooter) পাশাপাশি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে বিদ্যুৎচালিত স্কুটারও (Electric Scooter)। কিন্তু কোনটি কিনলে দীর্ঘমেয়াদে বেশি সাশ্রয় হবে, তা নিয়ে অনেকেরই মনে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, শুধু স্কুটার কেনার সময়ের দাম দেখলেই হবে না। জ্বালানি, বিদ্যুৎ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে ব্যাটারি বদলানোর খরচও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে। তাহলে পাঁচ বছরের মোট খরচের নিরিখে কোন স্কুটার এগিয়ে?

আরও পড়ুন: সাধুর বেশে বাংলাদেশি! ধরা পড়তেই সামনে এল আসল পরিচয়


সাধারণত ভালো সংস্থার একটি পেট্রোল স্কুটারের দাম প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে পারে। অন্যদিকে, ভালো দূরত্ব চলতে পারে এমন একটি ইলেকট্রিক স্কুটারের দাম প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা হতে পারে। অর্থাৎ, পেট্রোল স্কুটারের তুলনায় ইলেকট্রিক স্কুটার কিনতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা বেশি খরচ হতে পারে। তবে স্কুটারের মডেল, শহর, সরকারি ভর্তুকি এবং অন্যান্য চার্জের উপর নির্ভর করে এই দামের পার্থক্য বদলে যেতে পারে।


ধরা যাক, আপনি প্রতিদিন গড়ে ৩০–৪০ কিলোমিটার যাতায়াত করেন। সে ক্ষেত্রে পাঁচ বছরে পেট্রোলের পিছনে খরচ ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, বাড়িতে ইলেকট্রিক স্কুটার চার্জ করলে পাঁচ বছরে বিদ্যুতের খরচ আনুমানিক ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে থাকতে পারে। এই হিসাব অনুযায়ী, চালানোর খরচে ইলেকট্রিক স্কুটার অনেকটাই এগিয়ে। বিশেষ করে যাঁদের প্রতিদিন দীর্ঘ পথ যাতায়াত করতে হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ের সুযোগ বেশি। তবে প্রকৃত খরচ নির্ভর করবে স্কুটারের মাইলেজ, বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম, পেট্রোলের দাম এবং চার্জিংয়ের পদ্ধতির উপর।


পেট্রোল স্কুটারে নিয়মিত ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন, এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার, স্পার্ক প্লাগ পরিবর্তন-সহ বিভিন্ন ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ বছরে এই খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা হতে পারে। অন্যদিকে, ইলেকট্রিক স্কুটারে ইঞ্জিন না থাকায় ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন বা ইঞ্জিনের নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের প্রয়োজন হয় না। তবে টায়ার, ব্রেক প্যাড এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। পাঁচ বছরে এই খরচ আনুমানিক ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা হতে পারে। অর্থাৎ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের খরচের ক্ষেত্রেও ইলেকট্রিক স্কুটার তুলনামূলক সাশ্রয়ী হতে পারে। যদিও প্রকৃত খরচ নির্ভর করবে স্কুটারের মডেল, ব্যবহার এবং যন্ত্রাংশের দামের উপর।

ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার আগে ব্যাটারির বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। কারণ, দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরে ব্যাটারির কর্মক্ষমতা কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যাটারি বদলানোর প্রয়োজন হলে আনুমানিক ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। তবে এই খরচ ব্যাটারির ধরন, স্কুটারের মডেল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার দামের উপর নির্ভরশীল। বর্তমানে কিছু সংস্থা তাদের ইলেকট্রিক স্কুটারের ব্যাটারিতে দীর্ঘমেয়াদি ওয়ারেন্টি দেয়। তবে ওয়ারেন্টির মেয়াদ, শর্ত এবং ব্যাটারি বদলানোর ক্ষেত্রে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে, তা কেনার আগে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত।

সব দিক বিবেচনা করলে, প্রতিদিন ৩০–৪০ কিলোমিটার যাতায়াতের ক্ষেত্রে ইলেকট্রিক স্কুটার দীর্ঘমেয়াদে বেশি সাশ্রয়ী হতে পারে। কেনার সময় দাম কিছুটা বেশি হলেও বিদ্যুৎ ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কম হওয়ায় সেই অতিরিক্ত খরচের একটা বড় অংশ উঠে আসতে পারে।তবে যাঁদের প্রতিদিন খুব কম দূরত্ব যাতায়াত করতে হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে পেট্রোল ও ইলেকট্রিক স্কুটারের মোট খরচের পার্থক্য তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো। পাশাপাশি চার্জ দেওয়ার সুবিধা, ব্যাটারির ওয়ারেন্টি এবং স্থানীয় পরিষেবা কেন্দ্রের ব্যবস্থাও বিবেচনা করা প্রয়োজন। সুতরাং, শুধু কেনার সময়ের দাম দেখে নয়, আগামী পাঁচ বছরে মোট কত টাকা খরচ হতে পারে, সেই হিসাব করেই স্কুটার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।