আকাশি নীল-সাদা জার্সিতে আর ম্যাজিক দেখাবেন না এলএম টেন। ১০ বছর আগেও একবার অবসর ঘোষণা করে ফেলেছিলেন। রাগে, দুঃখে, হতাশায়, অভিমানে। তারপর আবার ফিরে আসেন। ভাগ্যিস ফিরেছিলেন! রাজকীয় প্রত্যাবর্তন। তাঁর ট্রফি ক্যাবিনেটে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা থেকে ফাইনালিসীমা। অবসর ঘোষণার পর স্বামীকে নিয়ে মনের কথা লিখলেন তাঁর স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো।
স্বামীর অবসর ঘোষণার পর সমাজ মাধ্যমে মেসির বিশ্বকাপ জয় থেকে তিন সন্তানের সঙ্গে অসংখ্য মুহূর্তের ছবি পোস্ট করেছেন। সঙ্গে লিখেছেন আবেগপ্রবণ বার্তাও। আন্তোনেল্লার কথায় , ‘এভাবে এই অধ্যায় শেষ হচ্ছে বলে, কী যে গর্ব হচ্ছে। আমি তোমাকে কষ্ট পেতে দেখেছি, ব্যর্থ হতে দেখেছি, আবার উঠেও দাঁড়িয়েছ। আমি দেখেছি যখন কোনও কিছু তোমার পক্ষে ছিল না, তখনও তুমি হাল ছাড়োনি। সবসময় ফিরে আসার চেষ্টা করেছ। আমি ভাগ্যবতী যে, বহু বছর পর তোমার স্বপ্নগুলো পূরণ হতে দেখেছি।’
মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে উত্থান-পতনের সাক্ষী ছিলেন আন্তোনেলা। তবে সন্তানরা খুব কাছ থেকে বাবার এই লড়াই দেখতে পেয়েছে, তা-ও জানালেন মেসির স্ত্রী। মেসির ব্যর্থতা, প্রত্যাবর্তন এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের পুরো যাত্রার সাক্ষী তাঁর সন্তানরাও।
আন্তোনেলা লেখেন, ‘এমন একটি বিষয় রয়েছে, যা আমাকে সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ করে। আমাদের সন্তানরা খুব কাছ থেকে পুরো বিষয়টি দেখতে দেখতে বড় হয়েছে। ওরা দেখেছে, ওদের বাবা লক্ষ্যপূরণের জন্য কী ভাবে লড়াই করেছে এবং বিশ্বাস হারায়নি। ফলে তোমাকে সেরার শিরোপা পেতে এবং বিশ্বকাপ ট্রফি জিততেও দেখেছে ওরা।’
বিশ্বকাপ হোক বা কোপা আমেরিকা দেশের জার্সিতে মেসি খেলতে নামলেই গ্যালারির ভিআইপি বক্সে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত থাকতেন মেসির স্ত্রী। মাঠের বাইরে স্ত্রী ছিলেন মেসির অন্যতম সাপোর্ট স্টিমেট। দীর্ঘ সময় ধরে প্রেমের পর ২০১৭ সালের ৩০ জুন রোজারিওতে রাজকীয়ভাবে বিয়ে করেন মেসি ও রোকুজ্জো। মেসি ও আন্তোনেলার তিনটি সন্তান রয়েছে। থিয়াগো, মাতেও ও চিরো। ২০০০ সালে তিনি বার্সায় যোগ দেওয়ার পর রোকুজ্জোর সঙ্গে যোগাযোগ কমে গিয়েছিল। যদিও পরে নিজের খারাপ সময়ে মেসিকে পাশে পেয়ে রোকুজ্জো বুঝে গিয়েছিলেন যে এই ব্যক্তিই তাঁর যোগ্য জীবনসঙ্গী।
















